করোনার প্রভাবে ৩০০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে বাংলাদেশ

img

ডেস্ক প্রতিবেদকঃ 

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস অবশেষে আঘাত হেনেছে বাংলাদেশেও। গতকাল রবিবার (৮ মার্চ) সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তিনজনের শরীরে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ৩ জনের মধ্যে ২ জন পুরুষ ও একজন নারী। তাদের কোয়ারেনটাইনে রাখা হয়েছে। আক্রান্তদের দুজন ইতালি থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশি। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। 

চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাস এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১০৭টি দেশের মানুষের শরীরে শনাক্ত হয়েছে। এই মারণ ভাইরাসে নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৮২৮ জন। শুধু চীনেই মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৯ জন। চীনের বাইরে নিহত হয়েছে ৭০৯ জন। 

গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, মহামারি আকার ধারণ করা এই করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক দেখা দেয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। 

এরইমধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)-এর পক্ষ থেকে দেয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সম্ভাব্য সবচেয়ে খারাপের দিকে গেলে অন্তত ৩০২ কোটি ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বাংলাদেশ। করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে এশিয়ার অর্থনীতিতে প্রভাব বিষয়ে গত শুক্রবার এডিবি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

ওই প্রতিবেদনে এডিপি জানিয়েছে, বৈশ্বিকভাবে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ভালোভাবে সামাল দিতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে ৮০ লাখ ডলার। আর মোটামুটি ভালোভাবে অর্থাৎ সংক্রমণ তীব্র হওয়ার তিন মাসের মাথায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা গেলে বাংলাদেশের ক্ষতি পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা জিডিপির দশমিক ০১ শতাংশ। 

প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, করোনা ভাইরাসের বিস্তার এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতির ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষত পর্যটন, ভ্রমণ, বাণিজ্য ও উৎপাদন ব্যবস্থায় ধাক্কা, অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাস, সরবরাহ ব্যাহত ও স্বাস্থ্যগত প্রভাবে এ ক্ষতি হবে। অর্থনৈতিক ক্ষতির মাত্রা কী পরিমাণ হবে সেটা নির্ভর করবে ভাইরাসটির বিস্তারের ওপর।

এডিবি বলছে, করোনা ভাইরাসে বিশ্ব অর্থনীতির ক্ষতির পরিমাণ ৭৭ বিলিয়ন থেকে ৩৪৭ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত, যা জিডিপির দশমিক ১ থেকে দশমিক ৪ শতাংশ হবে। এ পরিস্থিতি খুব বেশি খারাপ না হলে সংক্রমণ তীব্র মাত্রায় পৌঁছার তিন মাসের মাথায় পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মতো বিধিনিষেধ কাটতে শুরু করলে বৈশ্বিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৫৬ বিলিয়ন ডলার, যা বৈশ্বিক জিডিপির দশমিক ২ শতাংশ।

মহামারি আকার ধারণ করা এই করোনা ভাইরাসে চীন ১০৩ বিলিয়ন ডলার বা জিডিপির দশমিক ৮ শতাংশ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে এডিপির পূর্বাভাসে বলা হয়েছে। এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো ২২২ বিলিয়ন ডলার বা জিডিপির দশমিক ২ শতাংশ ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।