২৫ মাস পর মুক্তি পেলেন খালেদা জিয়া

img

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২ বছর ১ মাস ১৯ দিন পর মুক্তি পেয়েছেন ২ মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের এক নির্বাহী আদেশে মুক্তি পেয়েছেন।

মুক্তির আদেশে সই হওয়ার পর বুধবার বিকাল সোয়া চারটার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হয়ে আসেন খালেদা জিয়া। হাসপাতাল থেকে সরাসরি গুলশানের বাসা ফিরোজা’তে যাবেন তিনি।

তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

খালেদার জিয়ার ভাই শামিম ইস্কান্দারের গাড়িতে করে তাকে গুলশানের ফিরোজাতে নেয়া হচ্ছে।

এদিকে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বাসায় নিতে বিকাল তিনটার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে পৌঁছান তার পরিবারের সদস্যরা। সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও।

এ সময় খালেদা জিয়াকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কয়েকটি গাড়িও প্রবেশ করে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি খালেদা জিয়া। তাকে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে বিশেষ কারাগার স্থাপন করে সেখানে রাখা হয়। গত বছরের এপ্রিল থেকে তিনি বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে দুটি শর্তে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়া হচ্ছে। সেগুলো হলো, এই সময়ে তার ঢাকায় নিজের বাসায় থাকতে হবে এবং তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।

এ বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে আজ বুধবার অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, শর্ত ভঙ্গ করলে খালেদার জামিন বাতিল হবে।

করোনা নিয়ে সারাদেশেই আতঙ্ক। এ পর্যন্ত কভিড-১৯ ভাইরাসে মৃত্যু হয়েছে চারজনের। সারা পৃথিবীতে মারা গেছেন সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালত বন্ধ রাখার ঘোষণা এসেছে। মানুষকে বলা হয়েছে, যে যার ঘরে থাকতে। সেই অবস্থায় হঠাৎই বিএনপি নেত্রীকে মুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার বিকালে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত রেখে তাকে ছয় মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ-সংক্রান্ত সুপারিশ করে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ফাইল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সুপারিশ অনুমোদন পাওয়ার পর মুক্তি পেলেন তিনি।

তবে এই সময়ের মধ্যে খালেদা জিয়া নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা নিতে পারবেন। তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না। অন্য হাসপাতালেও চিকিৎসা নিতে পারবেন না। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বিদেশে পাঠানো মানে তাকে ‘সুইসাইডের’ মুখে ফেলা।

বেগম জিয়ার মুক্তির খবর প্রকাশের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা করণীয় চূড়ান্ত করতে গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তিতে দেশের মানুষের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্থি এনে দিয়েছে। তবে শর্তসাপেক্ষে মুক্তির বিষয়টা কতটুকু ফলপ্রসূ হবে সেটা আমরা আলোচনা সাপেক্ষে জানতে পারবো।’

সারা দেশে যখন করোনা ভাইরাস নিয়ে জনমনে আতঙ্ক, উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ঠিক এমন সময়ে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেয়ার যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে তাতে করে দেশবাসীর মধ্যে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে বলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান মির্জা ফখরুল।

উল্লেখ্য, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ও জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট- এই দুই মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাভোগ করছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গেল বছরের এপ্রিলে তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এরপর থেকে গত প্রায় ১১ মাস ধরে সেখানেই কারা নজরদারিতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।