করোনা পরিস্থিতি: আরও ভয়ানক তথ্য জানালেন প্রধানমন্ত্রী

img

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

এপ্রিল মাসে করোনা বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এপ্রিল মাসটা আমাদের জন্য দুঃসময়ের মাস হিসাবে আসছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এপ্রিল মাসটা আমাদের জন্য খুবই দুঃসময়ের মাস হিসাবে আসছে। এটা সব জায়গা থেকে খবর পাচ্ছি।’

মঙ্গলবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম এবং সিলেট বিভাগের ১৫টি জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা জানান।  

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছিল। এর ১১ দিনের মাথায় ১৮ মার্চ দেশে প্রথম কোনও ব্যক্তি এ ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। এরপর প্রায় প্রতিদিন একজন দুজন করে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল। বাড়ছিল মৃত্যুও। মাঝের কয়েকদিন মৃত্যুর কোনও খবর আসছিল না। সংক্রমণের সংখ্যাও ছিল হাতে গোনা।

কিন্তু গতকাল সোমবার হঠাৎ করেই একদিনেই ৩৫ জন আক্রান্তের খবর জানায় জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর)। আসতে থাকে মৃত্যুর খবরও। এরপরই নড়েচড়ে বসে গোটা দেশের জনগণ। 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশে এপ্রিল মাসে করোনা আরও ব্যাপকভাবে আসবে। এর লক্ষণও আমরা দেখছি। আমাদের এমনভাবে চলতে হবে যাতে আমাদের মানুষের ক্ষতি কম হয়। তবে এটা ঠিক একটা স্থবিরতা এসেছে সবক্ষেত্রে। আমরা অর্থনীতির যে গতি সৃষ্টি করেছিলাম এটা স্থবির হয়েছে শুধু আমাদের দেশে নয় সারা বিশ্বের একই অবস্থা।’

সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে কারও মধ্যে করোনাভাইরাসের অসুস্থতা দেখা দিলে তাকে যথাস্থানে খবর দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আমাদের প্রচুর চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা দিন আনে দিন খায় সেই ধরনের সামান্য আয়ের মানুষগুলোর টাকা কামাই এখন বন্ধ হয়ে আছে। বহু লোক এখন কষ্ট করে যাচ্ছে। আমরা আমাদের সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল দিয়েছি।’

দেশের এই দুর্যোগকালে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘যে যেখানে পারেন কিছু শাক-সবজি উৎপাদন করে নিজের চাহিদা মেটান। উদ্বৃত্ত থাকলে সেগুলো দিয়ে কারও চাহিদা হলে তাদেরকেও দিন। সেইভাবেই সবাই প্রস্তুতি নিন। মুরগির খামার, মাছের ফার্ম, ক্ষুদ্র শিল্প, মাঝারি শিল্প যেন চলমান থাকে। আমরা গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল নিয়ে জনগণের সুবিধার কথা আমরা ভাবছি।’

দুঃসময়ে অনেকেই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করার চেষ্টা করেন ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘তাদেরকে কিন্তু আমি এতটুকু ছাড় দেবো না। আমরা কষ্ট করে গরিবের জন্য অর্থ-খাদ্য দেবো, সেটা যেন গরিবের হাতে পৌঁছায়।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে এত ধন-সম্পদ, অস্ত্র-শস্ত্র আজ কোথায় গেল? কোথায় গেল বিশ্বের এত এত শক্তি? শক্তি নাই, শেষ। প্রবল শক্তিশালী করোনার ভাইরাসের কাছে সব শক্তি শেষ। বিশ্বের কোনও শক্তিশালী দেশই আজ কিছু করতে পারছে না।’

কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সরকার সময় মতো যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ায় অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশে এখনও ব্যাপকভাবে ছড়ায়নি বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। সামনে যে ভয়াবহ অবস্থাটা আসছে বাংলাদেশ সেটাও মোকাবিলা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন এবং এখনো দিয়ে যাচ্ছেন সেই সব চিকিৎসক, সেবিকা ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সরকার বিশেষভাবে পুরস্কৃত করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেছেন, ‘তাদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। যাদেরকে পুরস্কৃত করবো তাদের তালিকাটা আমার দরকার। তাদের উৎসাহ দেওয়া আমাদের প্রয়োজন। তবে যারা ভয়ে পালিয়ে ছিলেন তারা প্রণোদনা পাবেন না।’

শেখ হাসিনা বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মানুষ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা পাচ্ছেন না, সেবা পাচ্ছেন না এটা খুবই দুঃখজনক। আক্রান্তদের মানবিক দৃষ্টিতে দেখতে হবে।

এখানে চট্টগ্রাম বিভাগ ও সিলেট বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে আমার অনুরোধ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যন্ত আমাদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা আছেন তাদের কাছেও অনুরোধ সকলকে মিলে কমিটি করে দিতে হবে। এবং সেই কমিটি ভাতা পাওয়াদের বাদ রেখে খেটে খাওয়া মানুষদের তালিকা করতে হবে। অনেকে হাত পাততে আসবে না। অনেকে চাইতে পারবে না। তারা যাতে কষ্ট না করে তাদের বাড়িতে বাড়িতে খাবার পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের প্রশাসন উদ্যোগ নেবেন। সকলে মিলেই এই তালিকাটা করতে যারা সত্যিকার সাহায্যপ্রার্থী তাদের কাছে যেন সাহায্যটা পৌঁছায়। অন্তত নিদেনপক্ষে খাদ্যের ব্যবস্তাটা করতে হবে। এটা আপনারা দয়া করে করবেন এটা আমি চাই। আর এই ক্ষেত্রে যতদূর পারি আমরা করব।‘