রমজানে সুস্থভাবে রোজা রাখতে কিছু পরামর্শ

img

ডেস্ক প্রতিবেদকঃ 

রমজান মাসে সঠিকভাবে রোজা পালন করার জন্য প্রয়োজন সুস্থ শরীর। আর তাই, নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি প্রয়োজন পুষ্টিকর খাবারের রুটিন। এছাড়াও রমজানে সুস্থতা বজায় রাখতে প্রয়োজন রুটিন মেনে চলার একনিষ্ঠতা। 

এই বছরের রমজানে ইফতার বলুন কিংবা সেহরি, পারলে অবশ্যই ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন। সঙ্গে সবজি বেশি করে খাবেন। যতোটা সম্ভব হয় তাজা ফল সংগ্রহ করবেন এই মাসের জন্য। ইফতারির আয়োজনে ভাজা খাবার কমিয়ে ফল বেশি করে খান। এতে শরীর অনেকটাই ফুরফুরে লাগবে। 

আপনাদের রমজানের রোজা সুস্থ-সবল দেহ নিয়ে পালনের জন্য রইলো কিছু পরামর্শ।

১. রমজান মাসে অবশ্যই সেহেরি আর ইফতারে পুষ্টিকর খাবার রাখতে হবে। বিভিন্ন ফলের শরবতের পাশাপাশি, নানান জাতের আস্ত ফল খাবার অভ্যাস রাখতে হবে। এতে করে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিবে না।

২. বিরিয়ানি, খিচুড়ি বা পোলাও এমন ভারী খাবারগুলি অবশ্যই এড়িয়ে চলবেন। ইফতার ও সেহরিতে ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত খাবার খেলে পানির পিপাসা বাড়ে। এ সময় ক্লান্তি ভাব তৈরি হয়। তাই আদর্শ, সুষম খাবার খেতে হবে। প্রচুর পরিমাণে দেশি ফল, ফলের শরবত ও শাকসবজি খান।

৩. ইফতারির সময় হালকা খাবার যেমন স্যুপ ও অন্যান্য হালকা খাবার খাওয়া স্বাস্থ্যসম্মত। রক্তে চিনির মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে আনতে খাদ্য তালিকায়       কিছুটা মিষ্টি জাতীয় খাদ্য রাখা যেতে পারে। সেই সাথে খেজুর, প্রচুর শরবত, দুধ, ফলের রস এবং মৌসুমী ফল দিয়ে তৈরী ডেজার্ট তৈরি করে খাওয়া   যেতে পারে।

৪. রোজায় খাদ্য তালিকায় ক্ষতিকর চর্বিজাতীয় খাবার রাখবেন না। চর্বিজাতীয় খাবার শরীরকে গরম করে। এতে শরীর থেকে পানি বের হয়ে গিয়ে     পানিশূন্যতা তৈরি হয়।

৫. মিষ্টি খাবারের তালিকায় রাখতে পারেন জিলাপী। সারাদিন রোজা শেষে জিলাপী সুগার লেভেল দ্রুত বাড়িয়ে দিবে।

৬. হজমে ঘুম অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যাক্তির প্রতিদিন ৫-৭ ঘন্টা টানা ঘুম প্রয়োজন। এজন্য চেষ্টা করবেন রাতে তারাবীহ্ নামাজের পর দ্রুত ঘুমিয়ে যাওয়ার। রোজার সময় প্রতিদিন দুপুরের পরে একটু ঘুমিয়ে নিন। তাহলে আর রোজার ক্লান্তিতে আপনার শরীর ভেঙে পড়বে না। জোহরের নামাজের পর থেকে আছরের নামাজের মধ্যবর্তী সময়টি দিবানিদ্রার সবচেয়ে ভালো সময়।

৭. রোজার সময় বেশ কয়েকবার দাঁত ব্রাশ করার অভ্যাস রাখতে হবে। সেই সাথে, ফ্লসিং করে, দিনে কয়েকবার হাত মুখ ওয়াশ করুন।

৮. রোজায় চা, কফি, কোমল পানীয় পান করবেন না। এগুলো পানিশূন্যতা বাড়িয়ে তোলে। এর ক্যাফেইন প্রস্রাবের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে শরীরে খনিজ লবণ ও পানিস্বল্পতা দেখা দিয়ে থাকে।

৯. যাদের অ্যাজমা, ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসার ও উচ্চ রক্তচাপ থাকে তারা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন বিধি পুন:নির্ধারন করে নিন। রোজা রেখে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে, যেমনঃ অতিমাত্রায় দুর্বলতা, অসস্থি থাকলে সম্ভব হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন অথবা ব্লাড প্রেসার পরীক্ষা করুন।

১০. হঠাৎ ঠান্ডা পানি দিয়ে ইফতার করবেন না। বেশি ঠান্ডা পানি রক্তনালি সংকোচন বাড়িয়ে হজমে সমস্যা করে। এ সময় স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি পান করুন। শরীরের পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি খেয়াল রাখার ওপর গুরুত্ব দিন। এসব বিষয় খেয়াল রাখলে রমজানেও আপনার শরীর-স্বাস্থ্য পুরোপুরি ফিট থাকবে।