পশ্চিমবঙ্গে আম্ফানের আঘাতে নিহত বেড়ে ৭২

img

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে সুপার সাইক্লোন আম্ফানে ৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত কলকাতায় ১৫ জন, সুন্দরবনে ৪ জন, হুগলিতে ৩ জন, উত্তর ২৪ পরগনায় ১৭ জনের মৃত্যুর খবর এসেছে। বাড়িঘর, গাছ পড়ে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রাজ্যে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে। মৃতদের পরিবারকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা করে সাহায্য করা হবে।

তিনি আরও জানান, ঘূর্ণিঝড়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। দক্ষিণ ও উত্তর ২৪ পরগনা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় বিদ্যুৎ নেই।

বৃহস্পতিবার নবান্নে টাস্কফোর্সের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আবহাওয়া ঠিক থাকলে, শনিবার দুই ২৪ পরগনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করব।’

পরবর্তী সময়ে বিধ্বস্ত জেলাগুলি পরিদর্শনেরও ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। মন্ত্রীদেরও জেলায় জেলায় পরিস্থিতি ঘুরে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে প্রতি ক্ষেত্রেই সামাজিক দূরত্ববিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

আম্ফান পরবর্তী রাজ্যের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকেও আহ্বান জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বৃহস্পতিবার টুইট করে মোদি  জানিয়েছেন, গোটা ভারত পশ্চিমবঙ্গের পাশে আছে।

মোদি বলেছেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে আম্ফান যে ভাবে ধ্বংসলীলা চালিয়েছে, সেই দৃশ্য দেখেছি। এই সঙ্কটময় মুহূর্তে গোটা দেশ পশ্চিমবঙ্গের পাশে আছে। রাজ্যের মানুষের শুভ কামনা করছি।’

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ১৯৯৯ সালের পর বঙ্গোপসাগরের তৈরি হওয়া প্রথম 'সুপার সাইক্লোন' এই আম্ফান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় আম্ফান পশ্চিমবঙ্গের হাজার হাজার ঘর-বাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে। বঙ্গোপসাগরে উৎপন্ন ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের দাপটে ঘণ্টায় ১৮৫ কিমি বেগে ঝড়ো হাওয়া প্রবেশ করে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় অঞ্চলে।