খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা উৎসব ভাতাও পাবেন

img

নিজস্ব প্রতিবেদক:

একাত্তরে দেশ স্বাধীন করতে যাঁরা অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন, গত ৪৯ বছরেও সেই খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা উৎসব ভাতা পাননি। বীর মুক্তিযোদ্ধারা সম্মানীর সঙ্গে পান উৎসব ভাতাও। কিন্তু খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা শুধু সরকারি সম্মানী পান। এর সঙ্গে তাঁদের বছরে দুটি উৎসব ভাতা দেওয়ার জন্য গত সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তবে ভাতার পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করেনি অর্থ মন্ত্রণালয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তপন কান্তি ঘোষ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসব ভাতা চালুর জন্য আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। এখন বিষয়টি অর্থ মন্ত্রণালয় বিবেচনা করবে। আমরা খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যত সম্মানী দেওয়া হয়, ঠিক সেই পরিমাণই উৎসব ভাতা দেওয়ার কথা বলেছি।’

স্বাধীনতার ৪৯ বছর হয়ে গেছে। আগে কেন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসব ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলো না—এ প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা আমার সঙ্গে দেখা করার পর এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে কেন করা হয়নি তা আমি বলতে পারব না।’

এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা চিঠি পেয়েছি। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা যাতে উৎসব ভাতা পান, সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

সূত্র মতে, মহান মুক্তিযুদ্ধে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত গেজেটের মাধ্যমে চার ক্যাটাগরিতে সর্বমোট ৬৭৬ জন মুক্তিযোদ্ধাকে খেতাবে ভূষিত করা হয়। এর মধ্যে বীরশ্রেষ্ঠ সাতজন, বীর-উত্তম ৬৮ জন, বীরবিক্রম ১৭৫ জন ও বীরপ্রতীক ৪২৬ জন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৩ সাল থেকে ৬৭৬ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা দেওয়া শুরু করে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে বীরশ্রেষ্ঠ খেতাবপ্রাপ্তদের ৩০ হাজার টাকা করে, বীর-উত্তম খেতাবে ভূষিতদের ২৫ হাজার, বীরবিক্রমদের ২০ হাজার এবং বীরপ্রতীকে ভূষিত মুক্তিযোদ্ধাদের ১৫ হাজার টাকা করে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে এক লাখ ৮৯ হাজার ৩১১ জন মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা পান। ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ১২ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা হারে দুটি উৎসব ভাতা দেওয়া হচ্ছে। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসব ভাতা দেওয়া হলেও মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখা খেতাবপ্রাপ্তরা এ বিষয়ে এখনো বঞ্চিত। গত জুলাই মাসে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা অ্যাসোসিয়েশন বিষয়টি সামনে এনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দেয়। চিঠিতে বলা হয়, বর্তমান সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন করার জন্য সমস্ত ক্যাটাগরির মুক্তিযোদ্ধাদের উৎসব ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নিয়েছে। খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছাড়া অন্য সব ক্যাটাগরির বীর মুক্তিযোদ্ধারা উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮-এর ধারা ৩-এর উপধারা (১)-এর অধীন অন্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে উৎসব ভাতা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো উৎসব ভাতা দেওয়া হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ চিঠি পাওয়ার পর তাদের টনক নড়েছে। মন্ত্রণালয় বীরশ্রেষ্ঠ, বীর-উত্তম, বীরবিক্রম ও বীরপ্রতীকে ভূষিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানীর সমপরিমাণ দুটি উৎসব ভাতা দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার সমপরিমাণ দুটি উৎসব ভাতা দিলে চলতি অর্থবছরের বাজেটে কল্যাণ খাতে অতিরিক্ত দুই কোটি ৩৬ লাখ টাকার প্রয়োজন হবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে উৎসব ভাতা সম্মানী ভাতার সমপরিমাণ দেওয়া হবে নাকি অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো উৎসব ভাতা সম্মানী ভাতার তুলনায় কিছুটা কম দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে একটি সারসংক্ষেপ তৈরি করা হতে পারে। তারপর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এতে অনুমোদন দিলেই উৎসব ভাতা পাবেন খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধারা।