স্ট্রোকের অন্যতম কারণ কম ঘুম

img

 ডেস্ক প্রতিবেদক:

ঘুম হলো আমাদের শরীরের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। যা আজকাল আমাদের জীবন থেকে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে। অনেকেরই কম ঘুম হয়ে থাকে। 

কাজের চাপ, নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তাড়া, সেই সঙ্গে মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারের কারণে জীবনে ঘুম অনেক কম হয়। ঘুমাতে গেলেও এখন ঘুম আসতে চায় না। এ কম ঘুম আমাদের জীবনে অনেক ধরণের বিপদ ডেকে আনতে পারে। 

প্রতিদিন কম সময় ঘুমাচ্ছেন, জানেন কি কি ক্ষতি হতে পারে। এ বিষয়ে গবেষকরা বলছে, দীর্ঘদিন ধরে ৬ ঘণ্টার কম সময় ঘুমালে শরীরের একাধিক ক্ষতি হয়। এটা সব সময়ে চলতে থাকলে তা মানুষের আয়ুর ওপর প্রভাব ফেলে।

গবেষণার জন্য দলটি স্পেনের ৪ হাজার নারী-পুরুষের জরিপ চালায়, এদের প্রত্যেকের বয়স ছিল গড়ে ৪৬ বছর। এদের কারোরই হৃদরোগের কোনো ইতিহাস ছিল না। রাতে ঘুমানোর আগে এদের প্রত্যেকের শরীরে লাগানো হয় আর্টিগ্রাফ নামের একটি ছোট্ট যন্ত্র, যেটি প্রত্যেকের ঘুমের দৈর্ঘ্য, ঘুমের প্রকৃতির তথ্য সংগ্রহ করে। পরপর সাত রাত ধরে তাদের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। ঘুমের মধ্যে কে কতবার ওঠে বা কেমন নড়াচড়া করে সেসব তথ্যও সংগ্রহ করা হয়।

তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ছয় ঘণ্টা বা তার কম সময় ঘুমালে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ওবেসিটি এবং কোলেস্টেরল বৃদ্ধির মতো রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

গবেষকরা বলছে, ছয় ঘণ্টার কম ঘুমালে বা বারবার ঘুমের মধ্যে জেগে যাওয়ার কারণে ধমনীতে এক ধরনের চর্বিজাতীয় প্রাচীর তৈরির আশঙ্কা সৃষ্টি করে।  ধমনীতে প্রাচীর তৈরির ফলে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে তা স্ট্রোক, হজমে সমস্যা, স্থূলতা, ব্যাথা এমনকি হৃদরোগ পর্যন্ত হতে পারে।

সম্প্রতি আমেরিকান কলেজ অব কার্ডিওলোজি জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এতথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণা দলের প্রধান হোসে অরদোভাস বলেন, কম ঘুম সরাসরি হার্টের ওপর নয় বরং তা শরীরে অ্যাথারোক্লেরোসিস সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

ঘুম না হলে অনেক রকম বাজে চিন্তা মাথায় আসতে শুরু করে। যার জন্য মানুষ অনেক রকম মানসিক ভূল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এটি হলো কম ঘুমের সব থেকে বড় সমস্যা। তাই কখনো অল্প ঘুমানো যাবে না। ঘুমের সময় অল্প করে নিয়ে বাচ্চাকে পড়ানো বা সকাল বেলার কোনো কাজ করবেন। এটা একদম ঠিক নয়। তাই কম পক্ষে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্ট করতে হবে।

তবেই অনেক রকম সমস্যার হাত থেকে মুক্তি পেতে পারবেন। যদি আপনার কোনো স্মৃতি মনে না পড়ে বা আগের দিনের কথাগুলো ভূলে যেতে শুরু করেন। তবে অবশ্যই ভালো ঘুমানোর চেষ্টা করতে হবে। যদি চেষ্টা করেও ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমাতে না পারেন, তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।