অবৈধ বিলবোর্ড-সাইনবোর্ড অপসারণে মেয়র আতিকুলের অভিযান শুরু

img

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড, শপসাইন, প্রজেক্ট সাইন অপসারণে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম উপস্থিত থেকে এ অভিযান পরিচালনা করছেন। 

১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার সকালে ডিএনসিসি’র গুলশান নগরভবনের সামনে মেয়র আতিকুল ইসলাম অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড অপসারণে অভিযান শুরু করেন। 

এ সময় মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, এই সিটিকে নিয়মের মধ্যে চলতে হবে। যেখানে সেখানে সাইনবোর্ড উঠাবেন। আমি সবাইকে অনুরোধ করেছি আগেই। আমাদের আজ অভিযান চলবে, যেখানে অবৈধ সাইনবোর্ড বিলবোর্ড পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, ‘যে যত প্রভাবশালী হোক সেটা আমাদের দেখার বিষয় নয়। ম্যাজিস্ট্রেটদের সঙ্গে নিয়ে অভিযানে এসেছি। এই শহরে অবৈধ বিলবোর্ড সাইবোর্ড আর থাকবে না। সে কারনে আমি নিজে দাঁড়িয়েছি। সাইটবোর্ড, বিলবোর্ড ব্যবহারে অনুমতি নিতে হবে, ট্যাক্স দিতে হবে এবং নিয়মের মধ্যে এসব ব্যবহার করতে হবে।’

এ সময় মেয়র বলেন, ব্যবসার প্রচারে বিলবোর্ড লাগাতে হলে ফি পরিশোধনের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের অনুমোদন নিতে হয়। বনানী-বারীধারা এবং প্রগতি সরণি এলাকায় অবৈধ বিলবোর্ড উচ্ছেদ করতে এসে দেখি শতকরা ৯৫ শতাংশের নেই কোনো অনুমোদন। কিন্তু ঠিকই মনের মত করে সবাই বিলবোর্ড টাঙিয়ে রাজধানীর সৌন্দর্য নষ্ট করছে। অভিযানে না আসলে বুঝতেই পারতাম না এতো পরিমাণ অবৈধ বিলবোর্ড। আমি বিস্মিত!’

তিনি আরও বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে সতর্ক করেছিলাম। গতকাল ছিল শেষ দিন। এর মধ্যে যারা অনুমোদন নেন নি তাদের কাউকেই ছাড় দেব না। তিনি যত প্রভাবশালীই হোন না কেনো। আজ থেকে শুরু করেছি উচ্ছেদ কার্যক্রম। অবৈধ বিলবোর্ড নিঃশেষ করা পর্যন্ত চলবে অভিযান।’

অভিযানকালে অনুমোদিত বিলবোর্ড ব্যবহারকারীদের মিষ্টি খাওয়ান উত্তর সিটি মেয়র।

এর আগে গত ১১ সেপ্টেম্বর অবৈধ বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড অপসারণ বিষয়ক এক ভার্চুয়াল প্রস্তুতিমূলক সভা করে ডিএনসিসি। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। সভায় আতিকুল ইসলাম সে সময় বলেন, ডিএনসিসি এলাকায় কেউ কেউ অবৈধভাবে বিলবোর্ড স্থাপন করে বিজ্ঞাপন প্রচার করছেন। এছাড়া অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রিয়েল এস্টেট কোম্পানি এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ডিএনসিসির অনুমোদন ছাড়া শপ সাইন, প্রজেক্ট সাইন, সাইনবোর্ড, প্যানাফ্লেক্স, ব্যানার, ফেস্টুন ইত্যাদি ব্যবহার করছেন। আবার প্রতিটি দোকানে একটি করে সাইনবোর্ড ব্যবহারের কথা থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে একাধিক সাইনবোর্ড ব্যবহার করছে। এছাড়া অনেকে নির্ধারিত মাপের চেয়ে বড় সাইনবোর্ড ব্যবহার করছেন। এর ফলে নগরীর সৌন্দর্যহানির পাশাপাশি ডিএনসিসি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।