হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আসছে আজ

img

দিনাজপুর প্রতিনিধি:

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আবারো পেঁয়াজ আসা শুরু হবে আজ শনিবার। এ সংবাদ নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি ও হাকিমপুর উপজেলা চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ।

তিনি জানান, ভারতীয় রপ্তানিকারকরা আমাদের জানিয়েছেন ,গত ১৪ সেপ্টেম্বর সোমবার এলসি করা যে সমস্ত পেঁয়াজ ওপারে ট্রাকে আটকা পড়েছে, তা বাংলাদেশে শনিবার সকাল থেকে পাঠানো শুরু হবে। ওই পেঁয়াজ পচে যাওয়ার উপক্রর হাওয়ায় শনিবার থেকে পাঠাবে ভারত। 

হারুন অর রশিদ এর সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, দিনাজপুরের হিলি স্থল বন্দরের ওপারে ভারতে আটকা পড়েছে প্রায় তিন শতাধিক পেঁয়াজের ট্রাক। পচন ধরার
আশঙ্কায় বাংলাদেশি আমদানিকারকরা উদ্বিগ হয়ে পড়েন। আনুমানিক প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ আটকা পড়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা ১০ হাজার টনের মতো পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি করেছেন। ভারতীয় তিন শতাধিক ট্রাক পেঁয়াজ নিয়ে রাস্তায় আটকে পড়েছে। এসব পেঁয়াজ প্রবেশ করতে না পারলে সেগুলোতে পচন ধরবে। ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হবে। তাই, অন্তত এলসি করা পেঁয়াজগুলো শনিবার থেকে আনার ব্যবস্থা চলছে। পরে পেঁয়াজ আমদানি নিয়মিত হবে কি না তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় হস্তক্ষেপ নেবে।

তিনি আরো জানান, ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় রপ্তানিকারকরা প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ২৫০ থেকে ৩০০ ডলারে রপ্তানি করছিলেন। কিন্তু, ভারতে পেঁয়াজের মূল্য দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাওয়ায় ওই মূল্যে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করেছেন তারা। ভারতের বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন এলসি মূল্য নির্ধারণ করার জন্যই পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারতের ব্যবসায়ীরা ওই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতি মেট্রিক টন পেঁয়াজ ৭৫০ ডলার নির্ধারণ করার জন্য প্রস্তাব করেছেন।

এদিকে এ বিষয়ে হিলি স্থলবন্দর শুল্ক বিভাগের ডেপুটি কমিশনার সাইদুল আলম জানান, ভারতের কাষ্টমস কর্তৃপক্ষ বলেছে, পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়ায় পর স্থলবন্দরগুলোর ওপারে পেঁয়াজ দেয়ার সম্মত হয়েছে ভারত। শনিবার পেঁয়াজের ট্রাক প্রবেশ করবে বাংলাদেশে।

আরেক আমদানিকারক শহীদুল ইসলাম শহিদ বলেন, সোমবার থেকে হিলি সীমান্তে পেঁয়াজভর্তি ট্রাকগুলো আটকে থাকায় পেঁয়াজ এরইমধ্যে অর্ধেক পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। শনিবার বা রোববার ট্রাকগুলো দেশে ঢুকলেও অর্ধেকের বেশি পেঁয়াজ ব্যবহারের উপযুক্ত থাকবে না। এতে প্রতি ট্রাকে ৫-৬ লাখ টাকা লোকসান হবে। প্রতি কেজি পেঁয়াজে ৪২ টাকা খরচ পড়েছে।