কাউকে ঘরের বাইরে দেখতে চাই না: আইজিপি

img

নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বুধবার থেকে শুরু হচ্ছে এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন। এই সময়ে জনসাধারণকে ঘরের বাইরে দেখতে চান না বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড . বেনজীর আহমেদ।

পুলিশ প্রধান বলেন, আগামীকাল থেকে আপনাদের ঘরের বাইরে দেখতে চাই না। তবে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া যাবে বলে জানান আইজিপি। বলেন, বাইরে গেলে মাস্ক পরতে হবে এবং বাইরে থেকে ঘরে ফিরে স্যানিটাইজার দিয়ে পরিষ্কার হবেন। আপনার মাধ্যমে যেন কেউ করোনায় সংক্রমিত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

মঙ্গলবার রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে করোনা সংক্রমণ রোধকল্পে বিধিনিষেধ চলাকালে জরুরি প্রয়োজনে মুভমেন্ট পাস অ্যাপসের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন পুলিশ প্রধান। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আইজিপি এই অ্যাপসের উদ্বোধন করেন।

বক্তব্যে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়ার সুযোগ নিয়ে রাস্তায় জটলা পাকানো ও হাতিরঝিলে বা অন্য কোথায় গিয়ে তরুণ-তরুণীদের আড্ডা না দেয়ার আহবান জানিয়েছেন পুলিশ প্রধান।

বেনজীর আহমেদ বলেন, বাজার, করোনার টিকার ডেট থাকলে অতিপ্রয়োজনীয় কাজ থাকলেও বের হওয়া যাবে। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর যাওয়ার প্রয়োজন হলেও মুভমেন্ট পাস লাগবে।

এক ঘণ্টায় এক লাখ মুভমেন্ট পাসের আবেদন জমা পড়েছে বলে জানান আইজিপি।

যেভাবে নেবেন মুভমেন্ট পাস

movementpass.police.gov.bd এর ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পাস সংগ্রহ করতে পারবেন। তবে প্রতিটি পাস একবারই ব্যবহার করা যাবে। 

যার জন্য পাসটি দরকার, সেই ব্যক্তির নাম, মোবাইল ফোন নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র বা ড্রাইভিং লাইসেন্স, যে স্থানে যাচ্ছেন, সে জায়গার নাম, যেখান থেকে যাবেন, সেই স্থানের নাম ও যাত্রার কারণ ইত্যাদি তথ্য পূরণ করে উল্লেখিত লিংকে আবেদনের পর পুলিশ অনলাইনে কিউআর কোড স্ক্যানারসহ একটি পাস ইস্যু করবে। এই কোডটি স্ক্যান করেই চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা আবেদনকারীকে তথ্য ও যাত্রার কারণ নিশ্চিত করবেন। 

তবে চলাচলের পাস প্রদানের জন্য একটি বিশেষ অ্যাপও চালু করছে পুলিশ। যেটি ব্যবহার করে জরুরি প্রয়োজনে পাস পাবেন যেকোনও ব্যক্তি।সম্প্রতি সময়ে সাংবাদিকদের উপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবকে আর্থিক সহযোগিতা করেছি। দুইজন সাংবাদিকদের বলেছি মামলা করতে। আমরা তাদেরকে সহযোগিতা করেছি।

থানা পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে কেন জানতে চাইলে আইজিপি বলেন, জাতীয় কোনো ইস্যু না। স্থানীয় প্রশাসন মনে করেছে তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানো প্রয়োজন তাই করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত মহাপুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) ড. মঈনুর রহমান চৌধুরী, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ‍ উপস্থিত ছিলেন।