১২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস হবে চার-পাঁচ ঘণ্টা, ১৯ নির্দেশনা জারি

img

নিজস্ব প্রতিবেদক:

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসায় দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ১২ সেপ্টেম্বর থেকেই খোলার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। সেদিন থেকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

স্কুল-কলেজ খোলার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে রবিবার বিকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় বসে সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভায় বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও কয়েকজন সচিব উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে করোনা সংক্রমণের হার দ্রুত কমছে। অভিজ্ঞতা বলছে নভেম্বর ও ডিসেম্বরে সংক্রমণের হার কম থাকে। আর টিকা কার্যক্রম যে গতিতে চলছে সে বিবেচনায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু করব।

দীপু মনি বলেন, প্রাথমিকের পঞ্চম এবং ২০২১ সালে যারা এসএসসি ও এইচএসসি এবং ২০২১ সালে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দেবেন তাদের প্রতিদিন স্কুলে আসতে হবে। এছাড়া প্রাইমারির ক্ষেত্রে প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত, ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষাথীরা সপ্তাহে একদিন করে ক্লাসে আসবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১২ সেপ্টেম্বর শুরুর দিন চার-পাঁচ ঘণ্টা ক্লাস হবে। পর্যায়ক্রমে ক্লাসের সংখ্যা বাড়বে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে চেকলিস্ট পূরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং করে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে বন্ধ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

আপাতত স্কুলে অ্যাসেম্বলি হবে না জানিয়ে দীপু মনি বলেন, স্কুলে প্রবেশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করাতে হবে। স্কুলে আপাতত কোনো অ্যাসেম্বলি হবে না। তবে ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি বা খেলাধুলা চলবে যাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকতে পারে।

ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হতে হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ক্লাস শুরু হলেও প্রতিষ্ঠানে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে চায় সরকার। এক্ষেত্রে আগে একই শ্রেণিকক্ষে যে সংখ্যক শিক্ষার্থী বসত, তাদেরকে দুই থেকে তিনটি শ্রেণিকক্ষে বসাতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রতিদিন বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবে।

দীপু মনি আরও জানান, ‘যদি সব কিছু ঠিক থাকে, তাহলে যারা শুরুতে একদিন করে ক্লাসে আসবে, তাদেরকে ধীরে ধীরে দুইদিন, এরপর তিনদিন, এভাবে পর্যায়ক্রমে সবকিছু স্বাভাবিকের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে।

এদিকে আজ শিক্ষা অধিদফতর থেকে সব স্কুল-কলেজগুলো খোলার প্রস্তুতি নিতে ১৯ দফা নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। নির্দেশনাগুলো হলো—

* শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ মুখসহ অন্যান্য স্থানে কোডিড-১৯ অতিমারি সম্পর্কিত স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে করণীয় বিষয়গুলো ব্যানার বা অন্য কোনো উপায়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।

* শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে সব শিক্ষক-কর্মচারী শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা ও তা পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা করতে হবে।

*শিক্ষার্থীদের ভিড় এড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের সবগুলো প্রবেশমুখ ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা। যদি কেবল একটি প্রবেশমুখ থাকে সেক্ষেত্রে একাধিক প্রবেশমুখের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করতে হবে।

*প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিনে শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শ্রেণি কার্যক্রমে স্বাগত জানানোর ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা কিভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবে এবং বাসা থেকে যাওয়া-আসা করবে সে বিষয়ে শিক্ষণীয় ও উদ্বুদ্ধকারী ব্রিফিং দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের দেওয়া ভিডিও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।

* প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষ প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে প্রস্তুত রাখতে হবে।

*প্রতিষ্ঠানের সব ভবনের কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ এবং আঙ্গিনা যথাযথভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

* প্রতিষ্ঠানের সব ওয়াশরুম নিয়মিত সঠিকভাবে পরিষ্কার রাখা এবং পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করতে হবে।

* শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারী এবং অভিভাবক প্রবেশের সময় সরকার দেওয়া স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালনের ব্যবস্থা করতে হবে।

* প্রতিষ্ঠানের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীর সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

* প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দ্বারা হাত ধোয়ার এমন ব্যবস্থা করা যাতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ঢোকার আগে সবাই সাবান দিয়ে হাত ধুঁতে পারে।

*শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে পারস্পারিক ৩ ফুট শারীরিক দুরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

* শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা এবং কোথাও পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

*প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা নিরুপণ করতে হবে।

* প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার ব্যবস্থা করতে হবে।

* স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন করা হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ ও বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দঘন শিখন কার্যক্রমের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালিত করতে হবে।

* প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত মেরামত, বৈদ্যুতিক মেরামত এবং পানি সংযোগজনিত মেরামত সম্পন্ন করতে হবে।

* প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদেরসঙ্গে সভা করে এতদসংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।