বাপ-ব্যাটার জন্মদিন, ‘শুভ জন্মদিন বাপ আমার’

img

ক্রীড়া ডেস্ক:

জন্মদিন বিষয়টাই বেশ মধুর। আর বাবা-ছেলের যদি একই দিনে জন্মদিন হয়, তাহলে তো আর কথাই নেই। কারণ আজ তার জন্মদিনের পাশাপাশি ছেলে সাহেল মোর্ত্তজারও যে জন্মদিন!

মাশরাফী কাটিয়ে দিয়েছেন ৩৮টি বছর। অন্যদিকে ছেলে সাহেল মোর্ত্তজা পা রেখেছেন আট বছর বয়সে। দুজনের সম্পর্কটা একদম বন্ধুর মতন। একই সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন ক্যারম, লুডু কিংবা দাবার বোর্ডে।

বাইশ গজের সফল অধিনায়কের পাশাপাশি একজন পিতাও মাশরাফী। জন্মদিনে ফেসবুকে ছেলের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেছেন তিনি। যেখানে দেখা যাচ্ছে ছেলের চুল কেটে দিচ্ছেন তিনি। সঙ্গে ছেলেকে উদ্দেশ্য করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু কথাও লিখেছেন। পাঠকদের সুবিধার্থে সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

প্রিয় সাহেল, আজ তোর সাত বছর পূর্ণ হলো। তোর জন্মের পর আমার কেমন অনুভূতি ছিল, তা পুরোটা মনে নেই। তবে এতটুকু মনে আছে আমি আমার মনের আনন্দ সবার সামনে প্রকাশ করতে পারছিলাম না।

সম্ভবত, এটা আমার জীবনের বড় দুর্বলতার একটি। আজ আবার তোর বাবারও জন্মদিন। তোর দাদা-দাদির অনুভূতি হয়তো একই রকম। ব্যাপারটা কাকতালীয় হলেও আমার দারুণ লাগে। জন্মদিনে তোর জন্য স্পেশাল কিছু করতে না পারা হয়তো অনেকের চোখে ব্যর্থতা কিন্তু, তোর বাবার ক্ষেত্রের একই রকম হয়েছে।

তোর বাবাও কোনদিন এই দিনের অনুভূতিগুলো বোঝেনি। তোর বাবার খেলোয়াড়ি জীবন থেকে এ পর্যন্ত অনেকেই সেলিব্রেট করতে চাইলেও তা আর মন থেকে হয়নি। হয়তো পরিস্থিতির শিকার হয়ে দু-একবার অন্য কিছু করতে হয়েছে। তবে তুই এবং তোর বোন আমার জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আবিষ্কার, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যার জন্য মহান আল্লাহর কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ।

আজ তোর সাত বছর হয়ে গেল, চোখের সামনে দিয়ে কত বড় হয়ে যাচ্ছিস, ব্যাপার টা ভাবতেও ভালো লাগে। আবার ভয়টাও আমার ওখানেই। কারণ, আল্লাহ তোর জন্য যে বয়স নির্ধারণ করে রেখেছেন, সেখান থেকে তোর একটা বছর আজ ঝরে গেল। এই ভালোলাগা ও ভয়ের দোটানায় শুধু আল্লাহর কাছে দোয়া করি, আল্লাহ যেন তোকে একটা সুস্থ ও সুন্দর জীবন দান করেন। আর তোর আয়ু অনেক বড় করে দেন।

যে কয়দিন বাঁচবি তোর চোখ দুটো যেন ভালো কিছু দেখে, তোর কান দুটো যেন ভালো কিছু শোনে, তোর হাত দুটো যেন ভালো কিছু ধরে, তোর পা দুটো যেন সঠিক গন্তব্যে চলে, আর তোর হৃদয় যেন কখনও দুর্বলের জন্য সবল না হয়। মাথা উঁচু করে বেঁচে থাক বাপ, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে একদিন আমি সবার সামনে যেন বলতে পারি আমি সাহেলের বাবা। শুভ জন্মদিন বাপ আমার।