বিক্ষোভে উত্তাল শ্রীলঙ্কা মন্ত্রী-এমপিদের বাড়িতে আগুন , এমপিসহ নিহত ৫

img

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক: 

অর্থনৈতিক সঙ্কটে টালমাটাল শ্রীলঙ্কায় প্রধানমন্ত্রী রাজাপাকসে পদত্যাগ করতে বাধ্য হলেও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থামেনি। প্রেসিডেন্ট গোটাবায়ার পদত্যাগের দাবিতে আরও উত্তাল হয়ে পড়েছে ভারত মহাসাগরীয় দ্বীপ রাষ্ট্রটি। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সরকার সমর্থকদের দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর এসেছে। নিহতদের মধ্যে একজন এমপি। এছাড়া আহত হয়েছেন অন্তত দুই শতাধিক।

‘জারি থাকা সান্ধ্য আইনের মধ্যে বিক্ষোভকারীরা আগুন দিয়েছে রাজাপাকসের পৈত্রিক বাড়িতে। এছাড়া জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী, এমপি, সাবেক মন্ত্রী, একজন বিচারপতির বাড়ি ও স্থানীয় কিছু নেতাদের বাসভবন। বিক্ষোভকারীরা দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে কুরুনাগেলা শহরে রাজাপাকসের পৈত্রিক বাড়িতে আগুন দেয়। একই শহরে সাবেক মন্ত্রী জনস্টেন ফার্নান্দোর মালিকানাধীন একটি বারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কলম্বো গেজেট বলেছে, রাজধানী কলম্বোতে অন্তত ১৩৮ জনকে হাসপাতালটিতে ভর্তি করা হয়েছে। কলম্বো ন্যাশনাল হাসপাতালের এক মুখপাত্রকে উদ্ধৃত করে একই তথ্য দিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এদিকে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সহিংসতায় নয় বরং নিজের ছোড়া গুলিতেই ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য অমরাকীর্থি আথুকোরালা আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। কলম্বো পুলিশের ভাষ্য, রাজধানী উপকণ্ঠে বিক্ষোভকারীদের অবরোধের মুখে পড়লে অমরাকীর্থি তাদের দিকে গুলি ছুড়েন।

এমপির গুলিতে ২৭ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী মারা গেলে তাকে ঘিরে ধরেন সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। এসময় অমরাকীর্থি নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন।

‘স্বাধীনতা লাভের পর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কা। এই দুর্দশার জন্য প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসে এবং তার বড় ভাই প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে দায়ী বলে অভিযোগ বিরোধী দলগুলোর।

কয়েকমাস ধরে চলা জনবিক্ষোভের মুখে মন্ত্রিসভা থেকে পরিবারের কয়েক সদস্যকে বাদ দেন প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপাকসে। এরপরও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি দ্বীপরাষ্ট্রটির। গত রবিবার নজিরবিহীন এক হরতালের ডাক দেয় দেশটির বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। তাদের এই হরতালে গোটা দেশ অচল হয়ে পড়ার পর প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন বলে খবর আসে।

রাজধানী কলম্বোজুড়ে হাজার হাজার মানুষ যখন বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে তখনই খবর ছড়িয়ে পড়ে মাহিন্দা পদত্যাগ করেছেন। তার সঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চান্না জয়াসুমানা এবং শ্রমমন্ত্রী বিদুরা বিক্রমানায়েকেও পদত্যাগ করেন।

এদিকে বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট গোটাবায়া রাজাপাকসের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন করেছন। তবে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে নারাজ। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার দিকে যাওয়ায় শেষমেশ তিনিও পদত্যাগে বাধ্য হতে পারেন বলে ধারনা করা হচ্ছে।