সুইডেন ও ফিনল্যান্ডের ন্যাটোতে যোগদানের বিরোধিতার ঘোষণা তুরস্কের

img

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক: 

ইউক্রেনে রুশ হামলার ঘটনায় নিরাপত্তা সংকটে ভুগছে ফিনল্যান্ড ও সুইডেন। সম্প্রতি, দুটি দেশ পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোতে যোগদানের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কিন্তু তাদের যোগদানের বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।

বিবিসি জানায়, গতকাল সোমবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট এক সংবাদ সম্মেলনে সুইডেনকে সন্ত্রাসী সংগঠনের ‘হ্যাচারি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এরদোয়ান বলেন, তুরস্ক ফিনিশ ও সুইডিশদের ন্যাটোতে যোগ দেওয়ার বিরোধিতা করে।

তার মতে, ‘‘সন্ত্রাসী সংগঠনের ব্যাপারে দুটি দেশের কোনোটিরই স্পষ্ট ও খোলামেলা দৃষ্টিভঙ্গি নেই। আমরা কীভাবে তাদের বিশ্বাস করব?’’

এর আগে গত শুক্রবারই ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল আঙ্কারা।

তবে, ন্যাটোতে যোগদানের বিষয়ে রিসেপের সঙ্গে আলোচনা করতে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা তুর্কি সফর করতে পারেন বলে জানিয়েছে গার্ডিয়ান।

তুরস্কের অভিযোগ, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচিত কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে) সদস্য ও ফেতুল্লাহ গুলেনের অনুসারীদের আশ্রয় দেয় নর্ডিক এই দেশ দুটি। ২০১৬ সালের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার জন্য এই দলকেই অভিযুক্ত করে আঙ্কারা।

এ ছাড়া, ২০১৯ সালে সিরিয়া যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার কারণে তুরস্কের উপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল ফিনল্যান্ড ও সুইডেন।

অন্যদিকে, এক প্রতিক্রিয়ায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, উভয় দেশ ন্যাটোতে যোগ দিলে আপাতত তাদের কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু দেশগুলোতে সামরিক স্থাপনা ও পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করলে উত্তেজনা তৈরি হবে।

রাশিয়ার সঙ্গে ফিনল্যান্ডের ৮১০ মাইল (১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার) সীমান্ত রয়েছে। আর সুইডেনের সঙ্গে রাশিয়ার সামুদ্রিক সীমানা রয়েছে। ন্যাটোতে যোগদান করলে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় উভয় দেশ এতদিন ন্যাটোতে যোগদান থেকে বিরত ছিল। কিন্তু গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে রুশ অভিযানের পর নিরাপত্তা সংকটে ভুগতে শুরু করে উভয় দেশ। এক জরিপে দেখা যায়, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের পর ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের জনগণের মধ্যে ন্যাটোতে যোগদানের পক্ষে জনমত বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে, ন্যাটোতে যোগদান করলেও নিজ ভূখণ্ডে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন চাই না বলে জানিয়েছে ফিনল্যান্ড।