সহসভাপতি তিলোত্তমাসহ ছাত্রলীগের ৩২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

img

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চুরি, মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহসভাপতি তিলোত্তমা শিকদারসহ দলটির ৩২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এক ছাত্রদল নেত্রী।

ঢাকা মহানগর হাকিম মো. শান্ত ইসলাম মল্লিকের আদালতে রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মানসুরা আলম বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

পরে আদালত রাজধানীর শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন— কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক রাশেদ ফেরদৌস আকাশ, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নাজিম উদ্দিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি খাদিজা আক্তার উর্মি, ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সামাদ আজাদ জুলফিকার, ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক শামীম পারভেজ ও গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ হেল বারী, উপ-দপ্তর সম্পাদক মো. নাজির, উপ-আপ্যায়ন সম্পাদক শাহীন তালুকদার, উপ-দপ্তর সম্পাদক খান মো. শিমুল, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক সাদ্দাম হোসেইন, ঢাকা বিশ্বাবিদ্যালয়ের জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রলীগের নেতা অভিজ্ঞান দাস অন্ত, একুশে হল শাখার নেতা এনায়েত এইচ মনন, একই হলের এমদাদুল হাসান সোহাগ ও রাকিব হোসেন, বিজয় একাত্তর হল শাখার নেতা মজিবুল বাশার। সলিমুল্লাহ হল শাখার নেতা নাজিমুদ্দিন সাইমুন, চুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতা সৈয়দ ইমাম বাকের, ছাত্রলীগকর্মী মাহমুদ চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহিদুল্লাহ হল শাখার নেতা শরিফ আহমেদ, এফ রহমান হল শাখার কর্মী আব্দুর রাহিম, শহিদুল্লাহ হলের মুনিম শাহরিয়ার, সূর্যসেন হলের নাহিদ সাদী, জগন্নাথ হলের ঐশিক শুভ ও সৌরভ চক্রবর্তী, এসএম হলের সায়েম, এফ রহমান হলের রিয়াজ, মুজিব হলের মাহবুবুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক নেতা সাজ্জাদ, মিজানুর রহমান পিকুল এবং আব্দুল্লাহ আল ফারিয়াল।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, পূর্ব ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচি উপলক্ষে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা দোয়েল চত্তর থেকে মিছিল নিয়ে বের হলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, বিভিন্ন কলেজ শাখা ছাত্রলীগ এবং বিভিন্ন ইউনিটের সন্ত্রাসীরা ছাত্রদলের মিছিলে অতর্কিত হামলা শুরু করে। এক পর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশে পাশে আশ্রয় নিলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উপর তাদের হাতে থাকা লোহার রড, রাম দা, চা পাতি, বাশের লাঠি দিয়ে আঘাত করে এলোপাতাড়ি মারতে থাকেন এবং এলোপাতাড়ি ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। হামলার নেতৃত্ব দেন বালাদেশ ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। তাদের হামলায় প্রায় ৭০/৮০ নেতাকর্মী আহত হন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, এ মামলার আসামি আল আমিন রহমানের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে মামলার বাদীনি মানসুরকে হত্যার উদ্দেশে মাথায় আঘাত করলে সে হাত দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করে। তখন আসামি রাশেদ ফেরদৌস আকাশের হাতে থাকা বাশের লাঠি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য আঘাত করতে থাকে। আসামি নাজিমুদ্দিন এবং তিলোত্তমা শিকদারের হাতে থাকা লোহার রড ও বাশের লাঠি দিয়ে মানসুরকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতারী শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করতে থাকে। মানসুরা নিজেকে বাঁচাতে প্রাণপন চেষ্টা করতে থাকে। তখন মানসুরের হাত ও শরীরের বিভিন্ন অংশ জখম প্রাপ্ত হয়। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে আসামি তিলোত্তমা শিকদার ও আসামি খাদিজা আক্তার উর্মি তার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল ছিনিয়ে নেন।

অভিযোগে বলা আসামিরা বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৮৮৯/ ৩৭৯/ ৩৪ ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।