ঈদ উপলক্ষে শিথিল হচ্ছে ৮টায় দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ

img

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য রাজধানীতে রাত ৮টায় দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত শিথিল হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন।

ব্যবসায়ীদের ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে ১ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত নির্দেশ শিথিল থাকবে বলে জানান তিনি। এরপর ব্যবসায়ীরা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলবেন বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, সরকার যেহেতু একটি আইন প্রণয়ন করেছে, সেহেতু আইন আমরা মানতে বাধ্য। তবে ব্যবসায়ী এবং ঈদের বাজারের কথা মাথায় রেখে আগামী ১ জুলাই থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত ৮টায় মার্কেট বন্ধের যে নিয়ম, সেটা স্থগিত থাকবে। ঈদের পর যথারীতি ৮টাতেই মার্কেট বন্ধ হবে।

এ প্রসঙ্গে নিউমার্কেট ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য সরকার রাত ৮টায় দোকান বন্ধের নিয়ম করেছে, যা আমরা মানছি। কিন্তু এর ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কারণ মূল ব্যবসাটাই হয় সন্ধ্যা থেকে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে এ নিয়ম শিথিল করা হবে। তবে ঈদের পর আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করব যেন সার্বিক বিবেচনায় দোকানপাট অন্তত ৯টায় বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়।

১৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মো. আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকের সই করা এক চিঠিতে রাত ৮টার পর সারা দেশে দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপণিবিতান, কাঁচাবাজার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে বলে জানিয়েছে সরকার।

এদিকে রাত আটটায় দোকানপাট বন্ধের নির্দেশে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, করোনাভাইরাস মহামারিতে গত দুই বছরে ঈদ-নববর্ষসহ অন্য উৎসবে পুরোমাত্রায় বেচাকেনা না হওয়ায় লোকসান গুনতে হয়েছে। এ অবস্থায় রাত ৮টার পর দোকান, শপিংমল, মার্কেট, বিপণিবিতান খোলা না রাখার সরকারি নির্দেশনায় ফের ক্ষতির মুখে পড়বেন। ঈদের সময় ব্যবসা করতে না পারলে করোনায় ক্ষতির পর তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ব্যাহত হবে।

সাধারণ বা উৎসবকেন্দ্রিক কেনাবেচায় মূলত সন্ধ্যার পরই অফিসফেরত ক্রেতাদের সমাগম শুরু হয়। এমন প্রেক্ষাপটে রাত ৮টা পর্যন্ত কেনাবেচা সীমিত করা হলে দেশের লাখ লাখ ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী বিপাকে পড়বেন, একই সঙ্গে ক্রেতাসাধারণকেও পোহাতে হবে ভোগান্তি।