ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ বাইডেন, সৌদি আরবকে কঠোর পরিণতির হুমকি

img

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক: 

গত সপ্তাহে মার্কিন সরকারের আপিত্তি উপেক্ষা করে তেল উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয় ওপেক প্লাস। এতে ক্ষেপেছেন বাইডেন। সৌদি আরবের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক অবনতির পরিণামের ফল ভুগতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি। খবর রয়টার্সের।

মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান, ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর বব মেনেনডেজ বলেছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে অস্ত্র বিক্রিসহ সৌদি আরবের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করতে হবে।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বাইডেন বলেন, তিনি কোন বিকল্পগুলি বিবেচনা করছেন তা নিয়ে আলোচনা করবেন না।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারিন জিন-পিয়েরে বলেছেন, একটি নীতি পর্যালোচনা করা হবে। তবে কে পুনর্মূল্যায়নের নেতৃত্ব দেবে সে বিষয়ে পদক্ষেপ বা তথ্যের জন্য কোনো সময়রেখা দেননি তিনি। তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আসন্ন সপ্তাহ এবং মাসগুলিতে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।

সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেছেন, ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণরূপে অর্থনৈতিক এবং এর সদস্য দেশগুলি সর্বসম্মতভাবে নিয়েছে। জোটের সদস্যরা দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেছে এবং যথাযথ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ৫ অক্টোবর খনি থেকে দিনে ১০ লাখ ব্যারেল বা তারও বেশি জ্বালানি তেল হ্রাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উৎপাদন ও বিক্রয়কারী ১৫ দেশের জোট ওপেক প্লাস। জ্বালানি তেলের বাজার চাঙ্গা করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেয় গ্রুপটি। দৈনিক তেল উত্তোলন হ্রাসের এই সিদ্ধান্ত ওপেকের আগামী ৫ ফেব্রুয়ারির বৈঠকে চূড়ান্ত হতে পারে বলেও ওপেক সূত্র জানিয়েছিল।

অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ বা ওপেক তেল উত্তোলক আর রপ্তানিকারক ১৪ দেশের জোট। রাশিয়া এই জোটের সদস্য হওয়ার পর জোটের নতুন নাম হয়েছে ওপেক প্লাস।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার তেলের দামের ওপর পশ্চিমা সীমা নির্ধারণে আপত্তি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবকে রাশিয়ার প্রতি আকৃষ্ট করার অভিযোগ করেছে।

মার্কিন কর্মকর্তারা চুপচাপ তার বৃহত্তম আরব অংশীদারকে উৎপাদন হ্রাস করার ধারণা ত্যাগ করার জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু সৌদি আরবের ডি ফ্যাক্টর শাসক ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান তাতে কান দেননি।

২০১৮ সালে ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগির মৃত্যুর ঘটনায় বিডেনের জেদ্দা সফরের সময় বিন সালমান এবং বাডেনের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়েছিল।