মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সংশোদিত আইনের প্রতিবেদন স্থায়ী কমিটি জমা দিবে আগামীকাল 

img

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভাই-বোনকে মুক্তিযোদ্ধা ভাতার উত্তরাধিকার করে সংসদে তোলা বাংলাদেশ ‘মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮’ বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে এর প্রতিবেদন আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংসদে জমা দেয়া হবে।

মঙ্গলবার সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সংসদে তোলা বিলটি তাদের কাছে এসেছে। পাঁচ কার‌্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার প্রস্তাব সংসদে পাস হয়েছে। তবে তারা এক দিন আগেই বিলটি জমা দিতে পারবেন। ইতিমধ্যে কমিটির সদস্যরা আইনটির বিভিন্ন দিক নিজেরা দেখে নিচ্ছেন।

এর আগে গতকাল সোমবার সংসদে তোলা বিলটি পাঁচ কার‌্যদিবসের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট স্থায়ী কমিটির প্রতিবেদন সংসদে জমা দিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের প্রস্তাব কণ্ঠভোটে পাস হয়।

ওই দিন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার হিসেবে স্বামী-স্ত্রী-সন্তান ও পিতা-মাতার অবর্তমানে মুক্তিযোদ্ধার ভাই-বোনের ভাতা নেয়ার অধিকার দিয়ে ‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮’ বিল সংসদে তোলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী। প্রস্তাবিত আইনে প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত ও নিয়মিত আয়ের উৎস থাকা মুক্তিযোদ্ধাদেরও সম্মানী ভাতা পাওয়ার অধিকারী করা হয়েছে।

বিলে মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সুবিধাভোগী কারা হবেন, তা স্পষ্ট করা হয়েছে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে ১৯৭২ সালে জারি করা দ্য বাংলাদেশ (ফ্রিডম ফাইটারস) ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অর্ডার রহিতক্রমে পরিমার্জন ও যুগোপযোগী করে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্র আইন প্রণীত হয়। আগের আইনে প্রতিরক্ষা বাহিনী, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সদস্য বা সরকারি পেনশনভোগী বা যাদের নিয়মিত আয়ের উৎস আছে, তারা অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তাদের সম্মানী ভাতা দেয়া সম্ভব হচ্ছিল না। নতুন আইনে সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে প্রধানমন্ত্রীকে চেয়ারম্যান ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীকে ভাইস চেয়ারম্যান করে ১১ সদস্যের মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই বোর্ড মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানাধীন স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ করবে। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সম্মানী ভাতা, উৎসব ভাতা বা অন্য ভাতা বা সম্মানী দেবে।

বোর্ডের অন্য সদস্যদের মধ্যে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত চারজন মুক্তিযোদ্ধা এমপি বা উত্তরাধিকারী, অর্থসচিব, শিল্পসচিব, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার ও ট্রাস্ট্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।