আদিপিতা হযরত আদম (আঃ) এর জীবনী

img

 আদিপিতা হযরত আদম (আঃ)

 আব্রাহামীয় ধর্ম এবং বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনীতে উল্লেখিত একজন ব্যক্তি। ইহুদিখ্রিস্টান ও ইসলাম ধর্মের অণুসারীদের বিশ্বাস অণুসারে তিনি ছিলেন প্রথম সৃষ্ট মানব। ইসলাম ধর্মের বর্ণনা মতে তিনি আল্লাহপ্রেরিত রাসুল বা বাণীবাহক এবং তাঁকে এই ধর্মে হযরত আদম (:) হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তাঁর স্ত্রী ছিলেন হাওয়া (আ:)।

প্রথম মানব ও প্রথম রাসুল

ইসলাম ধর্ম মোতাবেক আদম আল্লাহর সৃষ্ট প্রথম মানব। পবিত্র কোরানের বর্ননা থেকে জানা যায়, আল্লাহ যখন ফেরেশতাদেরকে জানালেন যে তিনি পৃথিবীতে তাঁর প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে যাচ্ছেন তখন ফেরেশতারা বলল,

“আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত আপনার গুণকীর্তন করছি এবং আপনার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি?” তখন আল্লাহ বলেন “নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।” 

আল্লাহ তাঁকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেন। তারপর তাঁর দেহে প্রাণ সঞ্চার করেন। হাওয়াকে সৃষ্টি করা হয় আদমের পাঁজর থেকে। সৃষ্টির পর তাঁদের আবাস হয় বেহেশত বা জান্নাতে । মানুষ যেহেতু সকল সৃষ্টির সেরা তাই আল্লাহ ফেরেশতাকুলকে আদেশ করেন আদমকে সিজদা করার জন্য। ইবলিশ ব্যতীত সকল ফেরেশতা এই আদেশ প্রতিপালন করেন। কুরআনে বলা হয়েছে,

“আমি আদমকে পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি নিযুক্ত করিব।” (সূরা আল বাকারা, আয়াত: ৩০)

কুরআনে আদম-এর নাম ১০টি সুরার ৫০ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা আল বাকার ,সুরাআলে ইমরান, সূরা আল আরাফ, সূরা ইসরা, সূরা আল কাহফ এবং সূরা ত্বোয়া-হাতে তাঁর নাম, গুনাবলী ও কার্যাবলী আলোচনা করা হয়েছে। সূরা আল হিজরও সূরা ছোয়াদে শুধু গুণাবলী এবং সূরা আল ইমরান, সূরা আল মায়িদাহ এবং সূরা ইয়াসীনে আনুসঙ্গিক রুপে শুধু নামের উল্লেখ আছে।

আবূ হূরায়রা থেকে বর্ণিত যে, হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন, আল্লাহ আদমকে সৃষ্টিকালে তার উচ্চতা ছিল ৬০ কিউবিট এবং মানুষ বেহেশতে প্রবেশকালে আদমের আকার লাভ করবে।

স্বর্গ থেকে বিতাড়নঃ

সৃষ্টির পর আদম ও হাওয়ার অবস্থান ছিল বেহেশতে বা স্বর্গে। সেখানে তাদের জন্য গণ্ধম ফল খওয়া নিষিদ্ধ ছিল। শয়তানের প্ররোচনায় হাওয়া গণ্ধম ফল খেয়ে ফেলেন এবং আদমকে এ ফল খেতে উৎসাহিত করেন। এটি মানুষের আদিপাপ বলে পরিগণিত হয়। এর শাস্তিস্বরূপ ঈশ্বর আল্লাহ তাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়ন করেন এবং শাস্তিস্বরূপ তাঁদের পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন। আদম এবং হাওয়া পৃথিবীর ভিন্ন দুটি স্থানে অবতরণ করেন। আদম অবতরন করেন সিংহল। দীর্ঘদিন পর আরবের আরাফাত নামক প্রান্তরে তাঁদের পুনর্মিলন হয়।

পৃথিবীর জীবন ঃ

পৃথিবীতে আগমনের পর আদম ও হাওয়াকে আল্লাহর তরফ থেকে ক্বাবাগৃহ নির্মাণের আদেশ প্রদান করা হয়। ক্বাবা নির্মিত হয়ে গেলে তাদেরকে তা তাওয়াফ করার আদেশ দেয়া হয়। বর্ণিত আছে আদম কর্তৃক নির্মিত ক্বাবা নূহের মহাপ্লাবন পর্যন্ত অক্ষত ছিল।

পরিবার ঃ

 আদমের নিঃসঙ্গতা দূরীকরণের জন্য তাঁর বাম পাঁজরের হাড় থেকে হাওয়াকে সৃষ্টি করা হয়। তাঁর স্ত্রী ছিলেন হাওয়া। পৃথিবীতে আগমনের পর তাঁদের ১৪০ জোড়া সন্তান হয়। আলোচিত সন্তানগণ হলেন: হাবিল, কাবিল, আকলিমা, গাজাহ। তাঁদের সন্তান শিস (আ:) পরবর্তীতে আল্লাহর একজন নবী (বাণীবাহক) হয়েছিলেন।