আজ বসল পদ্মা সেতুর ১১তম স্প্যান, দৃশ্যমান ১৬৫০ মিটার

img

বিশেষ  প্রতিবেদক:

দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে সেতুর ৩৩ ও ৩৪নং পিলারের উপর বসানো হয় স্প্যানটি। ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্প্যানটি ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই দিয়ে সফলভাবে বসানো হয়। এটি বসানোর ফলে পদ্মাসেতুর ১৬৫০ মিটার দৃশ্যমান হলো। নতুন স্প্যানটি বসানোর ফলে জাজিরা প্রান্তে মোট স্প্যানের সংখ্যা দাঁড়ালো নয়টিতে। এবং মাওয়া প্রান্ত একটি স্থায়ী ও একটি অস্থায়ী মিলিয়ে মোট ১১টি।

 চলতি মাসের ১০ তারিখ দশম স্প্যান বসানোর ১৩ দিনের মাথায় বসানো হলো ১১তম স্প্যান।

বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই বছরের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করে। পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে।

দ্বিতল পদ্মা সেতু হচ্ছে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া ও শরীয়তপুরের জাজিরার মধ্যে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য (পানির অংশের) ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। ডাঙার অংশ ধরলে সেতুটি প্রায় নয় কিলোমিটার দীর্ঘ হবে। খুঁটির ওপর ইস্পাতের যে স্প্যান বসানো হবে, এর ভেতর দিয়ে চলবে ট্রেন। আর ওপর দিয়ে চলবে যানবাহন। পুরো সেতুতে মোট পিলারের সংখ্যা হবে ৪২টি। এর মধ্যে ৪০টি নদীর ভেতর ও দুই পাড়ে দুটি। সেতুর ওপর ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের মোট ৪১টি স্প্যান বসবে। এ স্প্যানের অংশগুলো চীনে তৈরি হয়েছে।

২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর জাজিরা প্রান্ত দিয়েই শুরু হয় পদ্মাসেতুর স্প্যান বসানোর কাজ। ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যানটি বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু। পরে জাজিরা প্রান্তে বসানো হয় আরও আটটি স্প্যান। মাঝে মাওয়া প্রান্তে একটি স্প্যানকে অস্থায়ী এবং একটি স্প্যানকে স্থায়ীভাবে বসানোর পর কাজ আবার ফিরে আসে জাজিরায়। ৩৪ নম্বর পিলারের ওপর আগেই স্প্যান বসানো আছে। তার সাথে ৩৩ নম্বর পিলারের সঙ্গে জোড়া লাগিয়ে বসানো হয় একাদশ স্প্যান।