প্রচন্ড এই গরমে, হিটস্ট্রোক থেকে সাবধান

img

ডেস্ক প্রতিবেদক:

প্রকৃতিতে আগুন লেগেছে। গ্রীষ্মের খরতাপ ছড়িয়ে পড়েছে বাতাসেও। শরীর থেকে ঘাম ঝরছে অবিরাম। খাওয়াদাওয়া, চলাফেলা, কাজেকর্মে এমনকি ঘুমোনোতেই স্বস্তি মিলছে না। এমনই অস্বাভাবিক গরমে শরীরে দেখা দিতে পারে পানি শূন্যতা। যাবে বলা হয় ডি-হাইড্রেশন। আর এই ডি-হাইড্রেশনের মাত্রা বেড়ে গেলে তা মানুষের মস্তিষ্কে চাপ পড়ে, অচেতন হয়ে যায় মানুষ। যাকে বলা হয় হিটস্ট্রোক। 

প্রতিদিনের বাড়তে থাকা তাপ প্রবাহে গাছপালা নদীনালা মাঠঘাট যখন শুকিয়ে চৌচির তখন এই হিটস্ট্রোকেরও ঝুঁকি বাড়ছে। এই সময়টাতে বিশেষত খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ যারা রোদে পুড়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তাদের ক্ষেত্রে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। মনে রাখতে হবে- এই হিটস্ট্রোক একজন স্বাভাবিক সুস্থ মানুষের অতি অল্প সময়ে মৃত্যুও ঘটায়।

 হিটস্ট্রোকের কারণ ও লক্ষণসমূহ তুলে ধরা হলো:

লক্ষণসমূহ:
*
শরীর লালচে ও ঘামহীন হয়ে যাওয়া
* শরীরের তাপমাত্রা ১০৪০ থেকে ১০৬০ এফ পর্যন্ত উঠতে পারে। 
* প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা, বমি বমি ভাব, অসংলগ্ন কথাবার্তা ও আচরণ।
* সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা। 
* অস্থিরতা। 
* খিচুনি ও হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে পড়া।
* শরীরের রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া ও হৃৎসম্পন্দন কমে যাওয়া। 
* শরীরে দানার মতো গুটি দেখা দেয়া। 

হিটস্ট্রোকে করণীয়: 
এ ধরনের রোগীকে যতটা সম্ভব ঠান্ডা স্থানে রাখতে হবে। ভারি জামাকাপড় পরা যাবে না। যতটা সম্ভব পাতলা, সুতি ও ঢিলেঢালা কাপড় পরতে হবে।  

হিটস্ট্রোক হলে ঠান্ডা পানি বা বরফের টুকরো বগলের নিচে রাখুন। প্রচুর পরিমাণ পানি ও জুস পান করুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

আর যারা ঘরের বাইরে রোদে কাজ করেন তাদের কিছুক্ষণ পর পর প্রচুর পানি ও তরল খাবার খাওয়া দরকার। কারণ পানি ও তরল খাবার শরীরের আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় রাখে। মাথায় টুপি পরুন। সঙ্গে ছাতা রাখুন। চোখে সানগ্লাস ব্যবহার করুন। কাজের ফাঁকে ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিন। 

প্রচণ্ড গরমে হিটস্ট্রোক ঝুঁকি থেকে নিরাপদে থাকতে শিশুদের প্রতি বিশেষ সাবধানী হতে হবে। স্কুলের শিক্ষার্থীরা যেন বেশিক্ষণ প্রখর রোদে খেলাধুলা না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। 

হিটস্ট্রোক ঝুঁকি এড়াতে কিছুক্ষণ পর পর চোখমুখে পানি দিন। সম্ভব হলে দু-তিনবার গা ভেজান। সেক্ষেত্রে আইস প্যাকযুক্ত পানি হলে ভালো হয়। স্যালাইন খেতে হবে। এসি রুমে থাকতে পারলে ভালো। 

আর যাদের চা কফি সিগারের অভ্যাস আছে তারা এই গরমে সেগুলো খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কারণ, এগুলো সাময়িক ভালো লাগলেও শরীরে ব্যাপক হারে পানিশূন্যতা তৈরি করে। 

সর্বোপরি হিটস্ট্রোক আক্রান্ত রোগীর অবস্থা বেশি খারাপ হলে দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিতে হবে।