ডেঙ্গু দমনে দুই সিটিতে আরো ১৬০০ নতুন কর্মী

img

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ডেঙ্গু দমনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে আগের কর্মীর পাশাপাশি আরো এক হাজার ৬০০ নতুন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারে ডেঙ্গু দমনে চীন থেকে নিয়ে আসা নতুন কীটনাশক আনুষ্ঠানিক প্রয়োগ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। 

মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মকভাবে সবাইকে সাথে নিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছেন। আজ বন্ধের দিনেও আমরা এসেছি, আপনারা এসেছেন। সচিবালয়ে গেলে দেখবেন আমাদের মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সকল কর্মকর্তা কাজ করছেন। এই ধারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গ্রাম পর্যায়ের দপ্তরেও অব্যাহত আছে। দুই সিটি করপোরেশনকে আমরা নতুন করে ১ হাজার ৬০০ কর্মী দিয়েছি।’

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শিশুদের পাঠ্য বইয়ে সচেতনতামূলক অধ্যায় অন্তর্ভুক্তির তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশেই দেখেছি শিশুদের পাঠ্য সিলেবাসে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে, স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে, সংক্রামক রোগ যেমন ডেঙ্গু বা এডিস মশার বিষয়ে পড়ানো হয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার তার সব শক্তি প্রয়োগ করলেও শহরের সব বাসা পরিষ্কার করতে পারবে না। কিন্তু প্রতিটি বাড়ির মালিক যদি যদি মাত্র একদিন স্ব উদ্যোগে কাজ করেন তাহলে একদিনেই শহরের সব বাড়ি পরিষ্কার সম্ভব হবে।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এরইমধ্যে করপোরেশনের সবগুলো অঞ্চলে নতুন ওষুধ পৌঁছে দিয়েছে। খুব শিগগির সকল ওয়ার্ডে এটি পৌঁছে যাবে বলেও জানান মন্ত্রী। 

এ সময় উত্তর সিটি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কীটনাশক সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পরীক্ষিত হয় এসেছে। আজ থেকে নতুন ওষুধ ছিটানো শুরু হলো। তবে আমরা যেমন ওষুধ ছিটাবো, তেমনি সবাইকে সচেতন হতে হবে।’

মশক নিধন ওষুধ ছিটানো আরো দ্রুত করা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘দ্রুত ও অধিক এলাকায় নাগরিক সেবা দিতে পিকআপ ট্রাক ও মটরবাইকে ফগার মেশিন ও লার্ভিসাইড স্প্রেয়ার সংযোজন করা হয়েছে। আমরা অধিক লোকবল নিয়েছি, এলাকার জন্য কীটনাশকের বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।’

‘মশক কর্মীদের হেঁটে হেঁটে ওষুধ দিতে হয় বলে তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিলো, এখন হেঁটে হেঁটে এবং গাড়ি করে দুভাবেই মশক নিধন হবে। একবার কীটনাশক দেওয়া শেষ হলে গাড়িতে রাখা অতিরিক্ত কীটনাশক থেকে আবার রিফিল করতে পারবে। এর ফলে ওয়ার্ড অফিসে এসে রিফিল করার ঝামেলা এবং সময়ক্ষেপণ আর থাকবে না।’

 ‘জমা পানি ফেলে দিন, তিন দিনে একদিন’ এই স্লোগান উল্লেখ করে মেয়র বলেন, ‘প্রতি তিনদিনে অন্তত একবার যাতে আমরা যে কোন জমানো পানি ফেলে দেই। এডিস মশা নির্মূলের প্রধান উপায় হলো প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। তাই কোথাও পানি জমতে দেয়া যাবে না।’

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী এবং উত্তর সিটি মেয়র মোহাম্মদপুর টাউন হল এলাকার বাজারের বিভিন্ন দোকান, আবাসিক ভবন এবং অলিগলি পরিদর্শন এবং তাৎক্ষণিক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে অলিগলির আবর্জনা পরিষ্কারের নির্দেশ দেন।

এ সময়য় স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন এবং মশার প্রজননস্থল হতে পারে এমন কিছু চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। 

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আলেয়া সারোয়ার ডেইজি, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোমিনুর রহমান মামুন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মীর নাহিদ আহসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।