পাগলা মসজিদে ৫৪ দিনে ৮৮ লাখ টাকা

img

ধর্ম প্রতিবেদকঃ

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দান বাক্সে ৫৪ দিনে রেকর্ড ৮৮ লাখ টাকা জমা পড়েছে।

প্রতি চার মাস পর পর মসজিদের দানবাক্স খোলা হলেও এবার নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই শনিবার মসজিদের সিন্দুক খোলা হয়। পরে গণনা করে দেখা যায় ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ১৭ টাকা রয়েছে। সাথে বৈদেশিক মুদ্রাসহ বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার। এবার সময়ের আগেই বাক্স খোলার কারণ সম্পর্কে জানা যায়, গত ১৩ই মে গভীর রাতে ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে টাকা চুরির চেষ্টা করে একদল দুর্বৃত্ত। চোরকে হাতে নাতে ধরতে না পারলেও চুরিকৃত অর্থ ফেলে যায় চোরেরা। চুরিকৃত অর্থ বাজেয়াপ্ত করার পর কিশোরগঞ্জ কালেক্টরেটের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হাকিম আবু তাহের মোহাম্মদ সাঈদের তত্ত্বাবধানে সকল অর্থ গণনা করা হয়। গণনা শেষে সেখানে ৮ লাখ ৪ হাজার ৯৮১ টাকা ও কিছু স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়।

এরপর দান বাক্স খোলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। শনিবার সকাল ৯ টা হতে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত দীর্ঘ ০৯ ঘণ্টা গণনার পর চুরিকৃত দানবাক্স ব্যতীত বাকি চারটি বাক্সের টাকা গণনা করা হয়। এর আগে গত ৩১ মার্চ মসজিদের চারটি দান বাক্স থেকে ৮৪ লাখ ৯২ হাজার ৪ টাকা পাওয়া যায়।

জেলা প্রশাসক ও মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. সারোয়ার মোর্শেদ চৌধুরী এর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরা, মসজিদ কমিটির সদস্যবৃন্দ, সাংবাদিকবৃন্দ এবং গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অর্থ গণনা কার্যক্রম সম্পাদনা করা হয়। দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপ্লেক্সের বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। মানুষের দানের অর্থ মসজিদটির উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়। মসজিদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়।

মসজিদটির একটি এতিমখানা রয়েছে, সেই এতিমখানার ছেলেমেয়েদের থাকা, খাওয়া, পোশাকসহ তাদের লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ এখান থেকেই দেওয়া হয়। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকার মসজিদের উন্নয়ন ও সংস্কার কাজেও অনুদান দেওয়া হয়। তাছাড়া, মসজিদটির তহবিল থেকে বিভিন্ন দরিদ্র অসহায় লোকদের আর্থিক সহযোগিতা করা, চিকিৎসা সহায়তার পাশাপাশি লেখাপড়া বা বিয়ের সময় আর্থিকভাবে দুর্বলকেও সহযোগিতা করা হয়।

দানবাক্সের টাকা গণনা কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী হাকিম আবু তাহের মো. সাঈদ ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ১৭ টাকা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।