জাপানের প্রমোদ তরীতে করোনায় আক্রান্ত ১৭৬

img

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হতে পারে- এমন সন্দেহে জাপানে উপকূলে বিচ্ছিন্ন করে রাখা ডায়মন্ড প্রিন্সেস প্রমোদতরীতে এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৬ জনে। সেখানে নতুন করে ৩৯ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। বুধবার এমনটি জানিয়েছে জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। খবর রয়টার্সের।

এ ব্যাপারে জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাতসুনোবু কাতো জানান, নতুন করে ৩৯ জন আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১০ জন নাবিক এবং ১০ জন জাপানি নাগরিক এবং বাকিরা অন্যান্য দেশের। এদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। বুধবার পর্যন্ত দেশটিতে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১১৫ জনে। এছাড়া আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার। এমন অবস্থায় চীনের বাইরে জাপানের জাহাজটিতেই সবচেয়ে মারাত্মক রূপ নিয়েছে করোনাভাইরাস।

গত মাসের শেষ সপ্তাহে চীনের উপকূল অতিক্রম করে ডায়মন্ড প্রিন্সেস নামের বিশাল প্রমোদতরী। এসময় এক চীনা নাগরিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন সন্দেহে তাকে চীনে নামিয়ে দেয়া হয়। এরপর গত ৩ ফেব্রুয়ারি জাপানের ইয়েকোহামায় প্রমোদতরীটি এসে পৌঁছানোর পর দু’সপ্তাহ ধরে এটিকে আলাদা করে রাখা হয়েছে।

এতে থাকা সাড়ে তিন হাজারের বেশি লোককে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে জাপান। করোনা আক্রান্ত রোগীদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

প্রমোদতরী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাহাজটিকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখা হবে। তারপর পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘ডায়মন্ড প্রিন্সেস’ নামের ওই বিলাসবহুল যাত্রীবাহী জাহাজে ২ হাজার ৬৬৬ জন যাত্রী ও ১ হাজার ৪৫ জন ক্রু রয়েছে। সকল যাত্রীদের পরীক্ষা করার জন্য স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জাহাজে রয়েছেন। তাদেরকে জাহাজে নিজ রুমে থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ওই হাজাজে পূর্বে ভ্রমণ করা এক যাত্রী ২৫ জানুয়ারি হংকংয়ে গিয়ে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নেয়ার পর জাপান জাহাজটিকে অবরুদ্ধের এ পদক্ষেপ নেয়। এছাড়াও জাহাজে ভ্রমণকারী ৮ যাত্রীর শরীরে জ্বর ছিল, যা করোনা’র একটি আলামত।

গত ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে আটকে আছে এ জাহাজটি। এখন পর্যন্ত জাহাজের ১৭৬ যাত্রীর শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত যাত্রীদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাহাজেই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।