সৌদি আরবের বড় বিনিয়োগ আসছে: অর্থমন্ত্রী

img

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

জনশক্তি ও কর্মসংস্থান, দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও শিল্প, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিখাতসহ ধর্ম বিষয়ক খাতে সৌদি আরবের বিশাল বিনিয়োগ আসছে।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ-সৌদি আরব যৌথ কমিশনের (জেসি) ১৩তম সভা শেষে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এ কথা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ, সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাহির আব্দুল রাহমান গাসিম, আরামকোর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার এক্সপার্ট জুলিও সি হেজেলমেয়ার মোসেস প্রমুখ।

এসময় তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক এখন অনন্য উচ্চতায়। যত দিন যাচ্ছে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শক্তিশালী হচ্ছে। আরামকো বাংলাদেশে বিশাল বিনিয়োগ করবে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ এখনই বলা যাবে না। এছাড়া অনেক বিষয়ে চুক্তিও হয়ে গেছে।

দক্ষ জনশক্তি সৌদি আরবে পাঠানো প্রসেঙ্গ অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ায় দক্ষ জনশক্তি পাঠাচ্ছে। একইভাবে সৌদি আরবেও দক্ষ জনশক্তি পাঠানো হবে।

মুস্তফা কামাল আরো বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কটি অনেক দিনের।  যার পিছনে রয়েছে সৌদিআরব ও বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ মনোভাব ও আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব। বাংলাদেশ এখন বন্ধুত্বের উর্ধ্বে 'টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর অংশীদারিত্বকে' ধরে রাখার দিকে নজর দিচ্ছে। বাংলাদেশ তার দ্বিপাক্ষিক বন্ধুদেশ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে অব্যাহত ও বর্ধিত সমর্থন প্রত্যাশা করছে।’

তিনি আরে বলেন,  বাংলাদেশ এবং সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পরে দেশগুলির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই পারস্পরিক চুক্তির ভিত্তিতে একটি যৌথ কমিশন (জেসি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে যৌথ কমিশনের বাংলাদেশ ও সৌদিআরবে বিকল্পভাবে ১২টি অধিবেশন হয়েছে। সর্বশেষ (১২তম) যৌথ কমিশন অধিবেশন  রিয়াদে অনুষ্ঠিত হয়। ১২তম যৌথ কমিশন অধিবেশনটির ধারাবাহিকতায় এবার বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ  ১৩তম যৌথ কমিশন অধিবেশন আয়োজন করেছে।’

বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে বাংলাদেশের নেতৃত্বে রয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ। সৌদিআরবের ৪০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন সৌদি আরবের শ্রম ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী মাহির আবদুল রহমান গাসিম।

জনশক্তি, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন, বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী, ধর্মীয় বিষয়, পর্যটন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষি ও ফিশারি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা ১৩তম যৌথ কমিশন অধিবেশনে এজেন্ডা এবং দ্বিপক্ষীয় সহযোগীতার এলাকা হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়ানোরও আশা করছে। বাংলাদেশ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতকরনে সহায়তা; কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দারিদ্র্য হ্রাসে অবদান রাখতে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আশা করা হচ্ছে। এসডিজি, পরিপ্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১, অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা এবং অন্যান্য জাতীয় পরিকল্পনা ও নীতিমালার সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার সৌদি বিনিয়োগ প্রত্যাশ করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ এবার এমন একটা সময়ে এই যৌথ কমিশনের অধিবেশনের আয়োজন করছে যখন দেশটি তার উন্নয়নের পথে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলেছে। পাশাপাশি এ বছর (২০২০) গোটা জাতি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উদযাপন করছে।