ত্যাগী কর্মীদের মূল্য দিতে হবে: ওবায়দুল কাদের

img

বিশেষ প্রতিবেদকঃ 

আওয়ামী লীগে কোন সুবিধাবাদীর স্থান হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।“মুজিব বর্ষে” দলকে আগাছা, পরগাছা মুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি। দলে কোনো হাইব্রিড থাকবে না জানিয়ে ত্যাগ কর্মীদের মূল্যায়ন করতে সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।  

বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী মুজিব বর্ষে আওয়ামী লীগকে আগাছা, পরগাছামুক্ত করা হবে, প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে আওয়ামী লীগ চলবে। আওয়ামী লীগে কোনো সুবিধাবাদীর স্থান নেই। কোনো হাইব্রিড, বসন্তের কোকিলেরা আওয়ামী লীগের নেতা হতে পারবে না। আওয়ামী লীগের দুর্দিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মীরা নেতা হবেন।’

দলীয় নেতাকর্মীদের হুঁশিয়ার করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘কেউ ঘরের মধ্যে ঘর বানাবেন না। কমিটি করতে গিয়ে পকেট কমিটি করবেন না। ত্যাগী কর্মীরা কোণঠাসা হলে আওয়ামী লীগ কোণঠাসা হয়ে যাবে। ত্যাগী কর্মীদের মূল্য দিতে হবে। তা না হলে দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মুজিব বর্ষে আমরা সম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উৎপাটন করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের অসম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে চাই। আমরা আর কোনো অন্ধকারের অপশক্তি দেখতে চাই না। ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যে অন্ধকারের পরাশক্তি পরাজিত হয়েছে এই অপশক্তিকে ক্ষমতায়  আসতে দেবো না। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মূলধারার বাংলাদেশ নির্মাণ করবো। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী আর কোনো অপশক্তিকে আমরা ক্ষমতার মসনদে বসতে দিতে পারি না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মূলধারা বাংলাদেশ চালাবে। এটাই হোক আমাদের শপথ।’

বিএনপির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন কোন বছর। তাদের আন্দোলনে আর জনগণ সাড়া দেয় না।কয়েক মাস পরপরই আন্দোলনের কথা বলে। রমজানের ঈদের পর আন্দোলন, কোরবানির ঈদের পর আন্দোলন, পরীক্ষার পর আন্দোলন, দিন যায় মাস যায়, এই বছর না ওই বছর। বিএনপির আন্দোলন কোন বছর? বিএনপির আন্দোলনে মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসে না। মির্জা ফখরুল আন্দোলনে হারেন, নির্বাচনে হারেন। বেচারা কী করবে, হতাশায় আবোল-তাবল বলেন।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘বিএনপিকে নিয়ে বিচলিত হবেন না। এটা এখন বাংলাদেশ নালিশ পার্টি। নির্বাচনে ফেল, আন্দোলনে ফেল, এখন পুঁজি হচ্ছে নালিশ। তাও আবার বিদেশিদের কাছে। আরে দেশের মানুষের কাছে নালিশ করো, বিদেশিদের কাছে নালিশ করলে বাংলাদেশ ছোট হয়ে যায় না। বিদেশিদের কাছে নালিশ করে বিএনপি এখন বাংলাদেশকে খাটো করছে।’

কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ, শেখ হেলাল উদ্দিন এমপি, কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাসিম, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সংগঠনিক মির্জা আজম এমপি, এস এম কামাল হোসেন, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল এমপি,  গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খান, কোটালীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান বিমল কৃষ্ণ বিশ্বাস, পৌর মেয়র এস এম কামাল হোসেন, সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কমল সেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান হাওলাদার, কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হুমায়ুন কবীর প্রমূখ বক্তব্য দেন।

পরে দ্বিতীয় অধিবেশনে ভবেন্দ্রনাথ বিশ্বাসকে সভাপতি ও মো. আয়নাল হোসেন শেখকে সাধারণ সম্পাদক করে কোটালীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।