সবাই চাকরির পেছনে ছুটবে কেন? সংসদে প্রধানমন্ত্রী

img

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা দেশের তরুণদের চাকরির পেছনে না ছুটে স্বকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উদ্যোক্তা হিসেবে অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থান গড়ে তোলার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘(তার) সরকার এখন পর্যন্ত দেশের দুই কোটি মানুষের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। কিন্তু দেশের অনেক শিক্ষার্থী ও ছেলেমেয়েদের মধ্যে এমন প্রবণতা রয়েছে, যেনতেনভাবে লেখাপড়া শেষ করেই চাকরির খোঁজে নেমে পড়ে। সবাই চাকরির পেছনে ছুটবে কেন? বরং এদেশের ছেলেমেয়েরা যেন নিজেরাই ব্যবসা-বাণিজ্য করে আত্মকর্মসংস্থান এবং অন্যের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যবস্থা করে। নিজেরা উদ্যোক্তা হয়ে অন্যের চাকরির ব্যবস্থা করে।’

১২ ফেব্রুয়ারি বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপির সাংসদ হারুনুর রশীদ সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে ইংলিশ মিডিয়াম থেকে যাঁরা পাস করছেন, তারা বিদেশে চলে যাচ্ছেন। অনেক মেধাবী দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। তিনি জানতে চান, ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা রাখা এবং বিদেশ যাওয়া বন্ধ করতে সরকার উদ্যোগ নেবে কি না। তিনি আরও জানতে চান, ব্যাপক বেকারত্ব দূর করতে সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কি না।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যের কথায় মনে হচ্ছে, ইংরেজি মিডিয়ামে পড়লেই মেধাবী, আর বাংলা মিডিয়ামে যারা, তারা মেধাবী না। আমরা কিন্তু নিরেট বাংলা মিডিয়ামে পড়ে আসছি। হয়তো মেধাবী না, তবে একেবারে খারাপ যে তাও না। আরেকটু ভালো পড়ার সুযোগ পেলে ভালো রেজাল্ট করতে পারতাম।’

শেখ হাসিনা বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। শিল্পায়ন হয়েছে। চাকরির অসুবিধা হচ্ছে, তা নয়। সরকার স্টার্টআপ আইন করে অর্থ রেখেছে। একটা ফান্ড করা হয়েছে। সেখান থেকে টাকা নিয়ে নিজেরা উপার্জনের পথ করতে পারে। আরও ১০ জনকেও কাজ দিতে পারে।

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, বিশ্বের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ ধর্ম। কিন্তু ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে বিশ্বের কাছে পবিত্র এই ধর্মটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে। তবে ইসলাম ধর্মের মধ্যে ভাগ করা, কে ভাল কে খারাপ, কে প্রকৃত ইসলামে বিশ্বাসী, কে বিশ্বাসী নয়, কে সঠিভাবে ধর্ম পালন করে বা কে করে না, কে বেহেশেতে যাবে, কে যাবে না- তার বিচার তো আল্লাহই করবেন। তার বান্দারা কেন এই বিচার করবেন? কে ভাল মুসলমান, কে মুসলমান নয়- তার বিচার করার ভার মহান আল্লাহ তো কারো হাতে দেননি।

তিনি বলেন, ‘কারো ধর্মে আঘাত দিয়ে কথা বলা, অন্য ধর্মবলাম্বীদের ধর্মবিশ্বাসে আঘাত করা যাবে না। যার যার ধর্ম সেই পালন করবে। সেই বিশ্বাস যদি থাকে তাহলে এ দ্বন্দ্ব বা ভাগ আর থাকে না। আর যারা সত্যিকারের ইসলাম ধর্মে বিশ্বাস করেন- যার যার ধর্ম পালনের সুযোগ দিতে হবে। অন্য ধর্মাবলাম্বীরা যেন আঘাত না পায়- সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।’

বলিক বিশ্ববিদ্যালগুলোতে সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিলে আইন প্রণয়ন করার দাবি জানিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মুজিবুল হক চুন্নুর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিলের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি নিজেই কথা বলেছেন। তবে এ নিয়ে কোনো আইন করার প্রয়োজন নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদালয় মঞ্জুরি কমিশনই (ইউজিসি) এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে। এরপরও সরকার দেখবে এ বিষয়ে কী করা যায়। 

শেখ হাসিনা আরও জানান, জঙ্গী/সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সঙ্গে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় যেন কোনভাবে সম্পৃক্ত থাকতে না পারে সেজন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ চালু হওয়ার ফলে অন্যান্য অপরাধের মতো জঙ্গী কর্মকান্ডের সংবাদ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় জঙ্গীবাদ দমনে আইন-শৃৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে।