সাত মাসে রাজস্ব খাতে প্রবৃদ্ধি ১২ হাজার কোটি টাকা

img

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ 

রাজস্ব আহরণ গত বছরের (জুলাই ২০১৯-জানুয়ারি ২০২০) তুলনায় এখন পর্যন্ত ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধি হিসাব হবে গত বছর এ সময়ে আমরা কী অর্জন করেছি এবং এ বছর কেমন অর্জন করলাম। কিন্তু এ বছর যদি কম হয়, তাহলে দ্যাট ইজ নেগেটিভ গ্রোথ। আর যদি গত বছরের তুলনায় বেশি করি, তাহলে পজিটিভ গ্রোথ। আমার জানা মতে, এ বছর ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন আছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের অর্থমন্ত্রী এসব কথা জানান। এতে সভাপতিত্ব করেন কমিটির আহ্বায়ক মুস্তফা কামাল।

সভায় রাশিয়া থেকে এক লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাবসহ মোট সাতটি ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এতে মোট ব্যয় হবে ৮০৬ কোটি ৭৪ লাখ ১০ হাজার টাকা।

রাজস্ব ঘটতি বাড়ছে সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয় বড় আকারের, যাতে এটি অর্জন করার জন্য সবাই চেষ্টা করে। এ বিষয়ে আমাদের প্রকাশনাগুলো দেখবেন, সারা বিশ্বের অবস্থা দেখবেন, তারপর বলবেন আমরা কেমন আছি। রাজস্ব আহরণ গত বছরের তুলনায় এ বছর কমেনি। আপনারা যে পদ্ধতিতে হিসাব করেন, সে পদ্ধতিতে হিসাব করা নিয়ম না।

ব্যাংক কোম্পানি আইনের খসড়ায় প্রস্তাব করা হয়েছে যে, প্রাইভেট ব্যাংকের ডিরেক্টর, এমডি, ডিএমডি নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি নিয়োগ বোর্ডের মাধ্যমে অ্যাপ্রুভ করলে তাদের নিয়োগ হবে। এ সংক্রান্ত ধারা সংযুক্ত হচ্ছে, এ বিষয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, খসড়া ব্যাংকিং কোম্পানি অ্যাক্টের নতুন ধারা আছে একটি। এটি আমি এখনও পাইনি। আমার কাছে খসড়া এলে বলতে পারবো। যদি এটি হয় তাহলে ভালো হবে বাস্তবায়ন করা গেলে। সরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রে এভাবেই অনুমোদন নিয়ে করা হয়। সুতরাং বেসরকারি ব্যাংকের ক্ষেত্রেও এভাবে অনুমোদন নিয়ে স্ট্রাকচার বডির আওতায় যদি এটি করা যায়, তাহলে ভালো হবে। সেটা ভালো কাজ, আস্তে আস্তে ভালো কাজের দিকে যেতে হবে।

তিনি বলেন, আমাদের ব্যাংকিং কোম্পানি আইন বিদ্যমান আছে। এখানে কিছু অ্যামেনমেন্ট আনতে হবে এ আইনে। পুরো আইন চেঞ্জ করতে হবে না। প্রপোজাল এলে আমিই নিয়ে যাবো কেবিনেটে। সেখানে আলোচনা করে কেবিনেট যেগুলো গ্রহণ করবে সেগুলোই সংসদে অনুমোদনের জন্য যাবে, সেটাই নিয়ম।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গোপালগঞ্জে অ্যাসেনসিয়াল ড্রাগস লিমিটেডের (ইডিসিএল) তৃতীয় প্রকল্প সিভিল কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড প্লামবিং ওয়ার্ক এর আওতায় নন টেন্ডার আইটেমের ভেরিয়েশন কাজের প্রস্তাব অনুমোদন। প্রকল্পটি নির্মাণকাজ চলাকালে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা মোতাবেক ডিজাইন, ড্রইং, অনুযায়ী কাজের উপযোগিতা, সৌন্দর্য ও গুণগতমান বৃদ্ধি করাসহ কিছু নন টেন্ডার আইটেমের কাজ যুক্ত হওয়ায় ভেরিয়েশন বাবদ ৫ কোটি ১২ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮৬ টাকা ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল চুক্তিতে ছিল ৯৭ কোটি ২১ হাজার ৫১৫ টাকা।

সর্বমোট প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১০২ কোটি ১২ লাখ ৭৯ হাজার ২০১ টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে এসেনসিয়াল ড্রাগস লিমিটেডের (ইডিসিএল)। বৈঠকে অনুমোদিত অন্যান্য প্রকল্পগুলো, নেত্রকোণা- কেন্দুয়া -আঠারবাড়ী- ঈশ্বরগঞ্জ জেলা মাহসড়ক উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পটির পূর্ত কাজের প্রস্তাব অনুমোদন। যৌথভাবে কাজটি পেয়েছে তাহের ব্রাদারস লি. রানা বিল্ডারস প্রাইভেট লিমিটেড ও মাঝাহার এন্টারপ্রাইজ প্রাইভেট লিমিটেড। এতে মোট ব্যয় হবে ১১৫ কোটি ৫৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর।