হিংসার আগুনে জ্বলছে দিল্লি,নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৭

img

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের মধ্যে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন নিয়ে দেশটির রাজধানী দিল্লিতে যে সংঘাতের সূত্রপাত হয়েছিল, তা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

গত রবিবার সংঘাত শুরুর পর থেকে তিন দিনে সংঘাতে মোট ১৭ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের টেলিভিশন স্টেশন এনডিটিভি। নিহতদের মধ্যে এক পুলিশ কর্মকর্তাও রয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক। তাদের মধ্যে ৭০ জন গুলিবিদ্ধ।

এনডিটিভি'র প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার দিল্লির সংঘর্ষ আরও সহিংস হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দিল্লির চারটি স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে ।

এ ব্যাপারে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির সংবাদকর্মী সালমান রবি জানান, দিল্লিতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার মত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। নাগরিকত্ব আইনের পক্ষ এবং বিপক্ষদের মধ্যে মঙ্গলবার তুমুল সংঘর্ষ হয়েছে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে, ভজনপুর, চান্দবাগ, কারায়াল নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় লাঠি ও রড হাতে রাস্তায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র ব্যক্তিরা। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন দোকানপাট ও যানবাহন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েনে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি, মাঠপর্যায়ে পর্যাপ্ত পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

গোটা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দিল্লি পুলিশ। তাদের পক্ষে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে হিংসা অব্যাহত বলে ফোনে লাগাতার অভিযোগ পাচ্ছি আমরা।’

সিএএ সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ চরম আকার ধারণ করায় সোমবারই রাজধানীর একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। মঙ্গলবারও জাফরাবাদ, মৌজপুর-বাবরপুর, গোকুলপুরী, জোহরি এনক্লেভ এবং শিব বিহার মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়েছে। ওই সমস্ত স্টেশনে বন্ধ রাখা হয়েছে মেট্রো চলাচল। উত্তর-পূর্ব দিল্লির সমস্ত সরকারি এবং বেসরকারি স্কুলও বন্ধ রাখা হয়েছে। একাধিক জায়গায় জারি হয়েছে ১৪৪ ধারা।