স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে জনগণ : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

img

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আওয়ামী লীগের আমলে ভোট চুরির সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করে গড়ে তোলা হয়েছে। জনগণ যাকে খুশি তাকে ভোট দেবে। জনগণের ভাতের অধিকার এবং ভোটের অধিকার আমরা বাস্তবায়ন করেছি।’

সদ্য সমাপ্ত কাতার সফর নিয়ে সোমবার বিকালে সাড়ে ৪টায় তার সরকারি বাসভবন গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত ভাষণ ছাড়াও সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকলে উন্নয়ন হয় আওয়ামী লীগ তা প্রমাণ করেছে। এর জন্য ধৈর্য দরকার। আওয়ামী লীগ সবসময় দায়িত্ববোধ নিয়ে কাজ করে। বর্তমান সরকার টানা ক্ষমতায় থাকায় উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে।’

জনগলই আওয়ামী লীগের মুল শক্তি উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘জনগণের কথা মাথায় রেখেই কাজ করে যাচ্ছে সরকার। নির্বাচন উপলক্ষে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সবসময় জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করে।’

রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত যেতে হবে

এক সাংবাদিক প্রশ্ন রাখেন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য বোঝা হয়ে যাচ্ছে কি না? উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে ফেরত যেতে হবে, কিন্তু তাই বলে মিয়নমারের সঙ্গে আমরা ঝগড়া করতে চাই না।

‘যদিও রাশিয়া ইউক্রন যুদ্ধের কারণে রোহিঙ্গদের তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি একটু অন্য দিকে চলে গেছে। মানুষের পাশে আমাদের থাকতে হবে। যুদ্ধের সময় আমরাও শরনার্থী ছিলাম সেটাও মনে রাখতে হবে।’

ড. ইউনূসের পক্ষে বিশ্বের ৪০ নেতার চিঠি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সম্প্রতি নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে বিভিন্ন দেশের ৪০ নেতার চিঠির প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘তিনি (ইউনূস) একজন নামিদামি ব্যক্তি, কিন্তু এত নামিদামি ব্যক্তি তারপরও তাকে ৪০ জন ব্যক্তির নাম ভিক্ষা করে বিজ্ঞাপন দিতে হয়? এটাই আমার প্রশ্ন।’

সরকারপ্রধান বলেন, দেশে আইন আছে এবং আইন অনুযায়ী সব চলবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। আমরা শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ করি। যারা ট্যাক্স ঠিকমত দেয় সেটা আলাদা বিভাগ আছে ট্যাক্স আদায় করে।’

‘এই সমস্ত বিষয়ে কেউ যদি কোনো রকম আইন ভঙ্গ করে, শ্রমিকদের অধিকার শ্রম আদালত সেটা দেখে। সরকারপ্রধান হিসেবে এখানে তো আমার কিছু করার নেই। এর বাইরে আমি বাকি বলব? পদ্মাসেতু কিন্তু করে ফেলেছি খালি এটুকু সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিলাম।’

জ্বালানি চাহিদা পূরণে পাশে থাকবে কাতার

বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা পূরণে কাতার পাশে থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। কাতার সফরকালে দেশটির আমির শেখ তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানির সঙ্গে বৈঠকে পাওয়া আশ্বাসের কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

গত ৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী কাতার সফর শেষে দেশে ফেরেন। কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ বিন খলিফা আল থানি ও জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের আমন্ত্রণে এলডিসি সম্মেলনে যোগ দিতে ৪ মার্চ কাতার সফরে যান প্রধানমন্ত্রী।

স্বল্পোন্নত দেশগুলো তাদের ন্যায্য পাওনা চায়

লিখিত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলো করুণা বা দাক্ষিণ্য চায় না বরং আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাদের ন্যায্য পাওনা চায়। সফরে করোনা মহামারি ও চলমান ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী খাদ্য, জ্বালানি ও আর্থিক সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য নেওয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছি।

এ ক্ষেত্রে আমি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ, আর্থিক সহায়তা, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, নিরাপদ অভিবাসন, জলবায়ু অর্থায়ন প্রাপ্তি ইত্যাদি বিষয়ে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর বিশেষ প্রয়োজনের কথা তুলে ধরি।

এছাড়া বাংলাদেশসহ উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর উন্নয়ন অর্জনকে গতিশীল রাখতে বর্ধিত সময়ের জন্য এলডিসিদের জন্য প্রযোজ্য অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধাসহ অন্যান্য সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। 


এই বিভাগের আরও খবর